মার্কিন অলাভজনক সংস্থা ‘হেলথ অ্যান্ড এডুকেশন ফর অল’ বা এইচএইএফএ গত এক বছরে বাংলাদেশের ৩৪ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গাকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। ২০১২ সালে বিশ্বব্যাপী যাত্রা শুরু করার পরের বছর থেকেই সংস্থাটি বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এইচএইএফএর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিচালিত এই জনকল্যাণমূলক কাজের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই মাসের আগের বারো মাসে নোয়াখালীর বন্যাকবলিত এলাকার ১ হাজার ১৩ জন মানুষকেও স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আলোচ্য সময়ে সংস্থাটি কক্সবাজারের উখিয়া ও মহেশখালী, নোয়াখালী, ভাসানচর, কুড়িগ্রাম এবং রাজধানী ঢাকায় তাদের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী ছাড়াও বন্যাকবলিত মানুষ, তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিক এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীরা এই বিস্তৃত কার্যক্রমের সুফল পেয়েছেন। কক্সবাজারের কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশাপাশি উখিয়ার স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও মোবাইল মেডিকেল ক্লিনিকের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া মহেশখালীর জেলে জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়েছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে নোয়াখালী ও ভাসানচরের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিমের মাধ্যমে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ভাসানচরের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং নোয়াখালীর চরাঞ্চলসহ পাঁচটি বন্যাকবলিত এলাকা অন্তর্ভুক্ত ছিল। কুড়িগ্রামের বন্যাপ্রবণ ও নদীবেষ্টিত জনপদগুলোতে জরায়ুমুখ ক্যান্সার শনাক্তকরণ কার্যক্রমের পাশাপাশি খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যেখানকার বিভিন্ন কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা ছিল লক্ষাধিক। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জীবনমান উন্নয়নে এইচএইএফএর এই বহুমুখী উদ্যোগগুলো প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছে।


























