রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও এর আশপাশের এলাকায় ইউক্রেনের বড় ধরনের ড্রোন হামলার পর কিয়েভে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আরও তীব্র ও ব্যাপক হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে মস্কো। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের এই হামলার জবাব দেওয়া হবে কিয়েভে হামলা জোরদার করার মাধ্যমে।
২০ সেপ্টেম্বর মস্কো ও এর আশপাশের এলাকায় ইউক্রেন ব্যাপক ড্রোন হামলা চালায়। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, প্রায় ১ হাজার ৬০০ ড্রোন প্রতিহত বা ধ্বংস করা হয়েছে। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, এর মধ্যে প্রায় ৪৫০টি ড্রোন রাজধানীকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। তবে স্বাধীনভাবে এসব সংখ্যার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রুশ কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।
এই হামলার পর রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা করে, ইউক্রেনের ‘সন্ত্রাসী হামলার’ জবাবে কিয়েভে সামরিক স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোতে হামলা আরও বাড়ানো হবে। মস্কো দাবি করেছে, ইউক্রেনের হামলার মূল লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার নির্বাচনি কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানো।
রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের শেষ দিনে এই ড্রোন হামলা চালানো হয়। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলার পরও নির্বাচনি কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। অন্যদিকে, ইউক্রেন রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনীয় অঞ্চলগুলোতে নির্বাচন আয়োজনকে অবৈধ বলে অভিহিত করেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার প্রশংসা করেছেন এবং জানিয়েছেন, হামলায় ইউক্রেনে তৈরি দূরপাল্লার অস্ত্র, যার মধ্যে ‘পেলিকান’ ড্রোন এবং ‘ফ্লেমিংগো’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, তা ব্যবহার করা হয়েছে।
মস্কোর মেয়র আরও জানিয়েছেন, রাজধানীর একটি তেল শোধনাগারও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে, যার ফলে রাশিয়ার তেল পরিশোধন সক্ষমতার একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাব দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপরও পড়েছে।
অন্যদিকে, কিয়েভও কয়েক সপ্তাহ ধরে রুশ হামলার মুখে রয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী কিয়েভে রুশ ড্রোন হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রুতগতির জেটচালিত ড্রোন ব্যবহারের কারণে শহরটিতে নিয়মিত বিমান হামলার সতর্কতা জারি হচ্ছে। ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও অবকাঠামোও রুশ হামলার লক্ষ্য হয়েছে।























