যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক তিন সন্তান হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত লিন্ডসে ক্ল্যান্সির সাবেক স্বামী প্যাট্রিক ক্ল্যান্সি প্রথমবারের মতো টেলিভিশনে মুখ খুলেছেন। মামলার বিচারকাজে জুরি কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারার পর ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সন্তানদের হারানোর গভীর বেদনা, সাবেক স্ত্রীর মানসিক অবস্থা এবং তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ষড়যন্ত্রতত্ত্ব নিয়ে কথা বলেন।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে লিন্ডসে ক্ল্যান্সির হাতে তাদের তিন সন্তান—পাঁচ বছর বয়সী কোরা, তিন বছর বয়সী ডসন এবং আট মাস বয়সী ক্যালান—নিহত হয়। মামলায় লিন্ডসের আইনজীবী পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, সন্তানদের হত্যার সময় তিনি প্রসব-পরবর্তী মানসিক বিকার বা পোস্টপার্টাম সাইকোসিসে ভুগছিলেন এবং এর জন্য তাকে অপরাধমূলকভাবে দায়ী করা উচিত নয়।
গত ৪ সেপ্টেম্বর মামলার বিচারকাজে জুরি বিভক্ত হয়ে পড়লে বিচারক মিস্ট্রায়াল ঘোষণা করেন। ১২ সদস্যের জুরির মধ্যে ১১ জনই লিন্ডসেকে অপরাধমূলকভাবে দায়ী না করার পক্ষে ছিলেন, তবে একজন জুরি প্রসিকিউশনের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হন, যেখানে বলা হয়েছিল লিন্ডসে তার কাজের পরিণতি সম্পর্কে অবগত ছিলেন।
সাক্ষাৎকারে প্যাট্রিক জানান, ২০২২ সালের শেষ দিকে তিনি প্রথম লিন্ডসের ঘুমের সমস্যা ও উদ্বেগের বিষয়টি লক্ষ্য করেন। পরবর্তীতে তার মানসিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে একটি মনোরোগ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার মাত্র ১৭ দিন পরই সন্তানদের হত্যার হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।
প্যাট্রিক আরও জানান, ঘটনার পর তিনি লিন্ডসেকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তার মতে, লিন্ডসের এই কর্মকাণ্ডের পেছনে মানসিক অসুস্থতা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তিনি বলেন, লিন্ডসে তখন যে পরিস্থিতির মধ্যে ছিলেন, তাতে তিনি যতটা সম্ভব করার চেষ্টা করেছেন এবং এখন প্রতিদিন সেই ঘটনার পরিণতি নিয়ে বেঁচে আছেন।
সন্তানদের মৃত্যুর পর নিজের মানসিক অবস্থার কথাও সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেন প্যাট্রিক। তিনি জানান, একসময় তার নিজের বেঁচে থাকার ইচ্ছাও হারিয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি নিউইয়র্কে চলে যান এবং সন্তানদের স্মৃতি ধরে রেখে ধীরে ধীরে জীবনকে নতুনভাবে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
এই সাক্ষাৎকারে প্যাট্রিকের সঙ্গে তার বর্তমান স্ত্রী র্যাচেল ড্যানিসও উপস্থিত ছিলেন। তিনি প্যাট্রিকের শোকের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া এবং সন্তানদের স্মৃতি ধরে রাখার বিষয়ে কথা বলেন।























