দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়বৃদ্ধি এবং সার্বিক মূল্যস্ফীতির বাস্তব বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করে সরকার নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তা সত্ত্বেও বর্তমান চলমান বিভিন্ন শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে সংঘটিত তীব্র সহিংসতা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে বিগত দিনে ক্ষমতাচ্যুত ও বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল ‘আওয়ামী লীগের’ লুটপাট করে জমানো অবৈধ অর্থের বড় ধরনের বিনিয়োগ থাকার সংযোগ থাকতে পারে বলে জোরালো আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে অবস্থিত তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত নিয়মিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাব প্রদানকালে তিনি এই চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
পোশাক খাতের চলমান আন্দোলন ও সাম্প্রতিক নাশকতার প্রসঙ্গে আলোকপাত করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “শ্রমিকদের প্রতিটি নায্য ও যৌক্তিক দাবির প্রতি পূর্ণ সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেই বর্তমান সরকার পূর্বনির্ধারিত সময়ের বেশ আগেই নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করার ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে স্বাভাবিক নিয়মেই এই মুহূর্তে শ্রমিকদের মূল আন্দোলন বা কোনো ধরনের দাবি উত্থাপনের যৌক্তিকতা থাকার কথা নয়। কিন্তু এর পরেও যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভাঙচুর ও সহিংস আচরণ করে যাচ্ছে, তাদের সঙ্গে দেশের সাধারণ ও মেহনতি শ্রমিকদের ন্যূনতম কোনো সম্পৃক্ততা থাকতে পারে না।”
বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রাপ্ত গোপন তথ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিস্ট চক্র কিংবা বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলটির হাতে মজুত থাকা প্রচুর পরিমাণ লুটপাটের কালো টাকা পানির মতো খরচ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থিতিশীলতা ও নাশকতা সৃষ্টির সুদূরপ্রসারী অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যার সঙ্গে চলমান এই শ্রমিক আন্দোলনের গোপন সংযোগ থাকার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব অপতৎপরতা অত্যন্ত কঠোর হাতে প্রতিহত করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।”
তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসার সম্ভাব্য গুঞ্জন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, সরকার এমনটি মনে করে না যে এসব নাশকতার মাধ্যমে তাঁকে ফিরিয়ে আনার কোনো পথ তৈরি করা হচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, শেখ হাসিনা যদি দেশের প্রচলিত সুনির্দিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া ও নিয়মনীতি মেনে স্বদেশে ফিরে আসতে চান, তবে বর্তমান সরকার তাঁর সেই প্রত্যাবর্তনে কোনো ধরনের প্রশাসনিক বাধা সৃষ্টি করবে না।
পুলিশ বাহিনীর সংস্কার ও কর্মকাণ্ডের রূপরেখা তুলে ধরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের মতো সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে বা মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ ও দমনপীড়নের পুরোনো সংস্কৃতি থেকে পুলিশ বাহিনীকে পুরোপুরি বের করে আনা হয়েছে। বর্তমান প্রশাসন বিশ্বাস করে যে, উদ্ভূত পরিস্থিতি সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার এবং বলপ্রয়োগ করার আইনানুগ অধিকার পুলিশের অবশ্যই রয়েছে, তবে তা যেন অবশ্যই সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে নিশ্চিত করা হয়। সাধারণ জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ এবং রাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতার কথা বিবেচনা করেই সরকার এই জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করে চলেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।






















