Dhaka ০৫:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের ব্যাপক হামলা: ২৬ ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত, বহু বিলিয়ন ডলারের সরঞ্জাম ধ্বংস

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৮:৫২:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৬টিরও বেশি সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় ইরানের ব্যাপক হামলায় কয়েক বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।

এপি জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত ইরান ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ১১৫টিরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় মার্কিন সামরিক স্থাপনার বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরান প্রাথমিকভাবে মার্কিন ঘাঁটির আগাম সতর্কতাব্যবস্থা, রাডার ও বিমান প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামকে লক্ষ্যবস্তু করে। এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকার্যকর করার পর বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, গুদাম, সেনাদের আবাসন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।

কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে অন্তত ৩০ বার হামলা হয়েছে। এতে অন্তত ১৫টি বিমান রাখার হ্যাঙ্গারসহ একাধিক গুদাম ও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। একই দেশের ক্যাম্প বুয়েরিং ঘাঁটিতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যেখানে সেনাদের জিমনেসিয়াম, দোকান, খাবারঘর ও গাড়ি রাখার স্থাপনা হামলার শিকার হয়েছে।

এছাড়াও বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন স্থাপনাগুলোতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হামলায় মার্কিন ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান এবং একাধিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে ওই অঞ্চলে ১৫টি মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এপির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের হামলায় মার্কিন বাহিনীর আগাম সতর্কতা ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বহু বিমান, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও যোগাযোগ সরঞ্জাম সরিয়ে নিয়েছে বলেও জানিয়েছেন আঞ্চলিক কর্মকর্তারা।

তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সেনা ও সামরিক ঘাঁটিগুলো সুরক্ষিত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বজায় আছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সস্তা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে। র‍্যান্ড করপোরেশনের বিশ্লেষক রাফায়েল কোহেনের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধে এ ধরনের হামলা মোকাবিলা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের ব্যাপক হামলা: ২৬ ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত, বহু বিলিয়ন ডলারের সরঞ্জাম ধ্বংস

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৮:৫২:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৬টিরও বেশি সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় ইরানের ব্যাপক হামলায় কয়েক বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।

এপি জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত ইরান ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ১১৫টিরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় মার্কিন সামরিক স্থাপনার বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরান প্রাথমিকভাবে মার্কিন ঘাঁটির আগাম সতর্কতাব্যবস্থা, রাডার ও বিমান প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামকে লক্ষ্যবস্তু করে। এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকার্যকর করার পর বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, গুদাম, সেনাদের আবাসন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।

কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে অন্তত ৩০ বার হামলা হয়েছে। এতে অন্তত ১৫টি বিমান রাখার হ্যাঙ্গারসহ একাধিক গুদাম ও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। একই দেশের ক্যাম্প বুয়েরিং ঘাঁটিতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যেখানে সেনাদের জিমনেসিয়াম, দোকান, খাবারঘর ও গাড়ি রাখার স্থাপনা হামলার শিকার হয়েছে।

এছাড়াও বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন স্থাপনাগুলোতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হামলায় মার্কিন ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান এবং একাধিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে ওই অঞ্চলে ১৫টি মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এপির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের হামলায় মার্কিন বাহিনীর আগাম সতর্কতা ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বহু বিমান, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও যোগাযোগ সরঞ্জাম সরিয়ে নিয়েছে বলেও জানিয়েছেন আঞ্চলিক কর্মকর্তারা।

তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সেনা ও সামরিক ঘাঁটিগুলো সুরক্ষিত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বজায় আছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সস্তা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে। র‍্যান্ড করপোরেশনের বিশ্লেষক রাফায়েল কোহেনের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধে এ ধরনের হামলা মোকাবিলা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।