আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কুনার প্রদেশে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে সোমবার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রখ্যাত গণমাধ্যম টোলো নিউজের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের একটি পুলিশ স্থাপনায় সংঘটিত হামলার ঠিক দুদিনের মাথাতেই এই বিমান হামলার ঘটনাটি সামনে এল। এর ফলে দীর্ঘদিনের জটিল সম্পর্ক থাকা প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে সংঘাত ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই পাকিস্তান বিমান বাহিনী আফগানিস্তানের নানগরহার, পাকতিকা ও খোস্ত প্রদেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছিল। সে সময় পাকিস্তানি সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানী ইসলামাবাদ, বাজৌর এবং বান্নুতে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার উপযুক্ত প্রতিশোধ হিসেবেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। সেই অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল পাকিস্তানি তালেবান এবং ইসলামিক স্টেট-খোরাসান প্রদেশের অন্তত সাতটি সক্রিয় সশস্ত্র ঘাঁটি।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি করা হয়েছিল যে, ওই বিমান হামলাগুলোতে কোনো সশস্ত্র ঘাঁটির পরিবর্তে সাধারণ বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু এবং পবিত্র ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, কেবল নানগরহার প্রদেশেই এই হামলায় অন্তত ১৮ জন নিরীহ বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছিল।
তবে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ বরাবরই তাদের এই অভিযানে সাধারণ মানুষের হতাহত হওয়ার সমস্ত অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করে আসছে। একই সময় দেশটির একটি সামরিক সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছিল যে, ওই সামরিক অভিযানে প্রায় ৮০ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও সীমান্তবর্তী এলাকার সাম্প্রতিক সংঘাতপূর্ণ ঘটনা উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন উত্তাপ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।























