ইসরায়েলের জাতীয় পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় দেশটিতে চরম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সিদ্ধান্তহীনতা তৈরি হয়েছে। ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য ন্যূনতম ৬১টি আসনের প্রয়োজন হলেও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট কিংবা তাঁর মূল প্রতিপক্ষ গাদি আইজেনকোটের মধ্যপন্থী ইয়াশার পার্টির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট—কেউই এককভাবে তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়নি। এই জটিল ও ঝুলন্ত বাস্তবতায় পরবর্তী সরকার গঠনের উদ্দেশ্যে চারটি ভিন্ন রাজনৈতিক পথ উন্মুক্ত হলেও আদর্শিক মতভেদের দরুন কোনো পথই সহজ নয়; এবং আগামী ১২ সপ্তাহের মধ্যে সমঝোতা না হলে দেশকে পুনরায় নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে।
সংকট কাটাতে সম্ভাব্য প্রথম পথটি হলো আরব দলগুলোর সমর্থন ও অংশীদারত্ব নিয়ে বিরোধী জোটের সরকার গঠন করা, যদিও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যানের কট্টর আপত্তির কারণে তা সহজ নয়। দ্বিতীয়ত, লিকুদ পার্টি ও বিরোধী জোটের কিছু অংশ নিয়ে ‘জাতীয় ঐক্যের সরকার’ গঠন করা যেতে পারে; তবে আইজেনকোট ইতোমধ্যেই নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরকার গঠনে বসার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তৃতীয় পথটি হলো বিরোধী জোট ভেঙে অন্তত আটজন সংসদ সদস্যকে নেতানিয়াহুর পক্ষে নিয়ে আসা, যা বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। পরিশেষে সকল আলোচনা ও প্রক্রিয়া ব্যর্থ হলে ইসরায়েলকে পুনরায় সাধারণ নির্বাচনের পথে হাঁটতে হবে।
গঠনতান্ত্রিক নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর পর্যায়ক্রমে নির্বাচিত নেতাদের সরকার গঠনের জন্য নির্ধারিত মেয়াদে আহ্বান জানাবেন। যদি মনোনীত প্রথম ও দ্বিতীয় নেতা নির্ধারিত সময়ে সরকার গঠনে ব্যর্থ হন, তবে সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নতুন নির্বাচনের দিকে গড়াবে। তবে নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু নিজেই তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্বীয় দায়িত্বে বহাল থাকবেন। যদি শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা চুক্তি না হয়, তবে আগামী বসন্ত মৌসুমে ইসরায়েলকে বিগত আট বছরের মধ্যে সপ্তমবারের মতো নতুন একটি সাধারণ নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হতে পারে।























