Dhaka ০৬:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ইরানের সাথে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আরও দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে: ওবামা

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১২:১৩:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৩ বার দেখা হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সামরিক সংঘাত ও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক অবস্থান আগের চেয়ে অনেক বেশি দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে কঠোর মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

স্থানীয় সময় গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের মোরো শহরে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে এই দাবি উত্থাপন করেন।

প্রকাশ্য ওই সমাবেশে বারাক ওবামা বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বদলে আন্তর্জাতিকভাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপত্তাহীনতা ও ঝুঁকির মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।

সমাবেশে বক্তব্যদানকালে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পক্ষে সাবেক ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া যাবতীয় রাজনৈতিক ও সামরিক যুক্তির চরম সমালোচনা করেন ডেমোক্র্যাট দলীয় এই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ প্রসঙ্গে তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, ইরানের কাছে পূর্বে কোনো ধরনের প্রস্তুতকৃত পারমাণবিক অস্ত্র ছিল না। ২০১৫ সালে তাঁর সফল গণতান্ত্রিক প্রশাসনের সুপরিকল্পিত আলোচনার মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে যে ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তার মাধ্যমে কোনো ধরনের সংঘাত ছাড়াই দেশটির সম্পূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচিকে কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল।

নিজের পররাষ্ট্রনীতির সাফল্য তুলে ধরে ওবামা গর্বের সঙ্গে বলেন, ‘ইরানকে নিয়ন্ত্রণে আনতে আমাকে কোনো ধরনের সামরিক আক্রমণ বা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে হয়নি। আমি সবসময় বুদ্ধিমত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির পথ বেছে নিয়েছিলাম।’

ইরানের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত এই সামরিক সংঘাতের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে বিপুল অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার বিশদ বিবরণ তুলে ধরেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমাদের নিকটতম মিত্রদেশসমূহ এবং বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একের পর এক মারাত্মক পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে আমাদের বীর আমেরিকান সেনারা প্রাণ হারিয়েছেন এবং শত শত সেনা মারাত্মকভাবে আহত ও পঙ্গু হয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, ক্রমাগত আক্রমণের মুখে আমাদের জাতীয় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মূল মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে, যা সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বড় ধরনের প্রতিরক্ষা ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। আর এই ভুল নীতির সুযোগ নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক জলসীমা ‘হরমুজ প্রণালি’র ওপর কার্যত একচ্ছত্র ভেটো দেওয়ার ও চলাচলে নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার সামরিক ক্ষমতা পেয়ে গেছে ইরান।’

বক্তব্যের শেষাংশে উদ্ভূত বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘অদূরদর্শী এই সামরিক নীতির কারণেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে এতটা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে গেছে।’

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ইরানের সাথে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আরও দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে: ওবামা

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১২:১৩:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সামরিক সংঘাত ও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক অবস্থান আগের চেয়ে অনেক বেশি দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে কঠোর মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

স্থানীয় সময় গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের মোরো শহরে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে এই দাবি উত্থাপন করেন।

প্রকাশ্য ওই সমাবেশে বারাক ওবামা বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বদলে আন্তর্জাতিকভাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপত্তাহীনতা ও ঝুঁকির মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।

সমাবেশে বক্তব্যদানকালে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পক্ষে সাবেক ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া যাবতীয় রাজনৈতিক ও সামরিক যুক্তির চরম সমালোচনা করেন ডেমোক্র্যাট দলীয় এই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ প্রসঙ্গে তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, ইরানের কাছে পূর্বে কোনো ধরনের প্রস্তুতকৃত পারমাণবিক অস্ত্র ছিল না। ২০১৫ সালে তাঁর সফল গণতান্ত্রিক প্রশাসনের সুপরিকল্পিত আলোচনার মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে যে ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তার মাধ্যমে কোনো ধরনের সংঘাত ছাড়াই দেশটির সম্পূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচিকে কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল।

নিজের পররাষ্ট্রনীতির সাফল্য তুলে ধরে ওবামা গর্বের সঙ্গে বলেন, ‘ইরানকে নিয়ন্ত্রণে আনতে আমাকে কোনো ধরনের সামরিক আক্রমণ বা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে হয়নি। আমি সবসময় বুদ্ধিমত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির পথ বেছে নিয়েছিলাম।’

ইরানের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত এই সামরিক সংঘাতের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে বিপুল অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার বিশদ বিবরণ তুলে ধরেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমাদের নিকটতম মিত্রদেশসমূহ এবং বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একের পর এক মারাত্মক পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে আমাদের বীর আমেরিকান সেনারা প্রাণ হারিয়েছেন এবং শত শত সেনা মারাত্মকভাবে আহত ও পঙ্গু হয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, ক্রমাগত আক্রমণের মুখে আমাদের জাতীয় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মূল মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে, যা সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বড় ধরনের প্রতিরক্ষা ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। আর এই ভুল নীতির সুযোগ নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক জলসীমা ‘হরমুজ প্রণালি’র ওপর কার্যত একচ্ছত্র ভেটো দেওয়ার ও চলাচলে নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার সামরিক ক্ষমতা পেয়ে গেছে ইরান।’

বক্তব্যের শেষাংশে উদ্ভূত বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘অদূরদর্শী এই সামরিক নীতির কারণেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে এতটা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে গেছে।’