Dhaka ০২:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

পুলিশে ১৪ হাজার নতুন জনবল নিয়োগের অনুমোদন, ৪ হাজার এসআই পদেই থাকছে সরাসরি নিয়োগ

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১২:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে নতুন করে একযোগে ১৪ হাজার জনবল নিয়োগের একটি বড় প্রশাসনিক প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার। অনুমোদিত এই বিশাল নিয়োগের মধ্যে ৪ হাজার উপপরিদর্শক (এসআই) এবং ১০ হাজার কনস্টেবল পদে সদস্য নিয়োগ দেওয়া হবে। বিশেষ বিষয় হলো, এবার প্রস্তাবিত ৪ হাজার এসআই পদের সবকটিতেই সরাসরি নতুন প্রার্থী নিয়োগ দেওয়ার এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

গতকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ‘প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটি’র বিশেষ সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পেশ করা নতুন এই নিয়োগ প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করা হয়। একই সাথে এসআই পদের শতভাগ ক্ষেত্রে সরাসরি সাধারণ প্রার্থীদের নিয়োগের পথ সুগম ও আইনগত সুযোগ তৈরি করতে বহু পুরোনো ‘পুলিশ প্রবিধান’ (পিআরবি) সংশোধন করা হয়েছে।

বিদ্যমান আইন ও বিধি অনুযায়ী, পুলিশের এসআই পদের মোট খালি পদের ৫০ শতাংশ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করার এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ পদ সরাসরি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু সরকারের নতুন ও বিশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার ৪ হাজার এসআই পদের প্রত্যেকটিতেই সরাসরি নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। ফলে বিভাগীয় পদোন্নতির জন্য নির্দিষ্ট ৫০ শতাংশ কোটার অংশটিও এবার সরাসরি নিয়োগের আওতার অধীনে চলে আসছে।

সরকারের কৌশলগত পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই ১৪ হাজার সদস্যের বিশাল এই নিয়োগপ্রক্রিয়ার যাবতীয় প্রাতিষ্ঠানিক ধাপ সম্পন্ন করার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা ও নিয়োগের সার্বিক বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী জানান, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সারা দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখা ও পুলিশি টহল জোরদার করতে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যৌথ সম্মতিতে এসব নতুন পদ সৃজন করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুলিশ প্রবিধান সংশোধন করে আপাতত বিশেষ পরিস্থিতিতে কেবল একবারের জন্য ৪ হাজার এসআই পদে সরাসরি নিয়োগের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। তবে প্রশাসনিক প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও সরকার এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে।

পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের জোর দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের টানা সাড়ে ১৫ বছরের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের বড় একটি অংশের বিরুদ্ধে চরম দলীয় প্রভাবের অভিযোগ, গত প্রায় আট মাসে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়া এবং স্পর্শকাতর গোপনীয় তথ্য ফাঁসের মতো গুরুতর বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়েই মূলত পুলিশ বাহিনীকে নতুন করে পুনর্গঠনের এই মহা-উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

তবে প্রবিধান বদলে এসআই পদে শতভাগ সরাসরি নিয়োগের এই নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে পুলিশ বাহিনীতে দীর্ঘদিন ধরে বিভাগীয় পদোন্নতির প্রহর গোনা অভিজ্ঞ সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও অন্যান্য সদস্যদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিতে পারে বলে গভীর আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের বিশ্লেষণে, বিশেষ এই সিদ্ধান্তটি মাঠপর্যায়ের কর্মরত সদস্যদের পেশাগত মনোবল ও উদ্দীপনায় কিছুটা হতাশার সৃষ্টি করতে পারে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ পুলিশে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদের দীর্ঘদিনের শূন্যতা দ্রুত মেটাতে বিশেষ বিসিএস (৫২তম) আয়োজনের মাধ্যমে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। দ্রুততম সময়ে তাদের কর্মস্থলে পদায়ন নিশ্চিত করতে বুনিয়াদি বা মৌলিক প্রশিক্ষণের সময়সীমা কিছুটা কমিয়ে আনার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে দপ্তরটি।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন এই মেগা নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ শতভাগ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অত্যন্ত কঠোর গোয়েন্দা সংস্থা মারফত ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে নিয়োগের চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি, প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা, বয়সসীমা ও আবেদনের যাবতীয় সময়সূচি দাপ্তরিকভাবে প্রকাশিত হলেই কেবল চূড়ান্ত বিস্তারিত জানা যাবে।

জনপ্রিয়

বিভাজনের রাজনীতি নয়, ঐক্য ও বাস্তবসম্মত সমাধান চায় মার্কিন জনগণ: বারাক ওবামা

পুলিশে ১৪ হাজার নতুন জনবল নিয়োগের অনুমোদন, ৪ হাজার এসআই পদেই থাকছে সরাসরি নিয়োগ

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১২:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে নতুন করে একযোগে ১৪ হাজার জনবল নিয়োগের একটি বড় প্রশাসনিক প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার। অনুমোদিত এই বিশাল নিয়োগের মধ্যে ৪ হাজার উপপরিদর্শক (এসআই) এবং ১০ হাজার কনস্টেবল পদে সদস্য নিয়োগ দেওয়া হবে। বিশেষ বিষয় হলো, এবার প্রস্তাবিত ৪ হাজার এসআই পদের সবকটিতেই সরাসরি নতুন প্রার্থী নিয়োগ দেওয়ার এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

গতকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ‘প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটি’র বিশেষ সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পেশ করা নতুন এই নিয়োগ প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করা হয়। একই সাথে এসআই পদের শতভাগ ক্ষেত্রে সরাসরি সাধারণ প্রার্থীদের নিয়োগের পথ সুগম ও আইনগত সুযোগ তৈরি করতে বহু পুরোনো ‘পুলিশ প্রবিধান’ (পিআরবি) সংশোধন করা হয়েছে।

বিদ্যমান আইন ও বিধি অনুযায়ী, পুলিশের এসআই পদের মোট খালি পদের ৫০ শতাংশ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করার এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ পদ সরাসরি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু সরকারের নতুন ও বিশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার ৪ হাজার এসআই পদের প্রত্যেকটিতেই সরাসরি নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। ফলে বিভাগীয় পদোন্নতির জন্য নির্দিষ্ট ৫০ শতাংশ কোটার অংশটিও এবার সরাসরি নিয়োগের আওতার অধীনে চলে আসছে।

সরকারের কৌশলগত পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই ১৪ হাজার সদস্যের বিশাল এই নিয়োগপ্রক্রিয়ার যাবতীয় প্রাতিষ্ঠানিক ধাপ সম্পন্ন করার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা ও নিয়োগের সার্বিক বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী জানান, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সারা দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখা ও পুলিশি টহল জোরদার করতে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যৌথ সম্মতিতে এসব নতুন পদ সৃজন করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুলিশ প্রবিধান সংশোধন করে আপাতত বিশেষ পরিস্থিতিতে কেবল একবারের জন্য ৪ হাজার এসআই পদে সরাসরি নিয়োগের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। তবে প্রশাসনিক প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও সরকার এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে।

পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের জোর দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের টানা সাড়ে ১৫ বছরের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের বড় একটি অংশের বিরুদ্ধে চরম দলীয় প্রভাবের অভিযোগ, গত প্রায় আট মাসে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়া এবং স্পর্শকাতর গোপনীয় তথ্য ফাঁসের মতো গুরুতর বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়েই মূলত পুলিশ বাহিনীকে নতুন করে পুনর্গঠনের এই মহা-উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

তবে প্রবিধান বদলে এসআই পদে শতভাগ সরাসরি নিয়োগের এই নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে পুলিশ বাহিনীতে দীর্ঘদিন ধরে বিভাগীয় পদোন্নতির প্রহর গোনা অভিজ্ঞ সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও অন্যান্য সদস্যদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিতে পারে বলে গভীর আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের বিশ্লেষণে, বিশেষ এই সিদ্ধান্তটি মাঠপর্যায়ের কর্মরত সদস্যদের পেশাগত মনোবল ও উদ্দীপনায় কিছুটা হতাশার সৃষ্টি করতে পারে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ পুলিশে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদের দীর্ঘদিনের শূন্যতা দ্রুত মেটাতে বিশেষ বিসিএস (৫২তম) আয়োজনের মাধ্যমে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। দ্রুততম সময়ে তাদের কর্মস্থলে পদায়ন নিশ্চিত করতে বুনিয়াদি বা মৌলিক প্রশিক্ষণের সময়সীমা কিছুটা কমিয়ে আনার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে দপ্তরটি।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন এই মেগা নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ শতভাগ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অত্যন্ত কঠোর গোয়েন্দা সংস্থা মারফত ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে নিয়োগের চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি, প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা, বয়সসীমা ও আবেদনের যাবতীয় সময়সূচি দাপ্তরিকভাবে প্রকাশিত হলেই কেবল চূড়ান্ত বিস্তারিত জানা যাবে।