এক লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরদিনই অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। উখিয়া উপজেলার বালুখালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় চললেও, খোদ কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান উখিয়া থানায় গিয়ে তার হাতে নগদ অর্থ পুরস্কার তুলে দেন।
রোববার বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইয়াবা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশিত হলে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ঠিক একই দিনে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করার বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে পুলিশ সুপারের এমন পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
পুলিশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, মাসিক সমন্বয় সভায় সর্বোচ্চ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়ে থাকে। তবে অভিযোগ প্রকাশের দিনেই থানায় গিয়ে এসআই কিবরিয়ার হাতে নিজে পুরস্কার তুলে দেওয়ার এই ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই ঘটনায় উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী এলাকা থেকে ছৈয়দুল বশর ওরফে সিসি বশরকে আটক করে পুলিশ। ওই অভিযানে এসআই গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অংশ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগকারীদের দাবি, ওই অভিযানে দেড় লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও মামলার এজাহারে মাত্র ৫০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দের কথা উল্লেখ করা হয়। বাকি ১ লাখ পিস ইয়াবা পরে ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় মাদক কারবারিদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে মামলার এজাহারে সাক্ষী হিসেবে যাদের নাম রয়েছে, সেই দেলোয়ার ও সাদ্দাম জানিয়েছেন যে পুলিশের অভিযান বা ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। এমনকি মামলার সাক্ষী হিসেবে তাদের নাম থাকার বিষয়েও তারা সম্পূর্ণ অন্ধকারেই ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, পুরো ঘটনার সত্যতা প্রমাণে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে।


























