দক্ষিণ মেরু বা অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের পুরোটাই বরফে ঢাকা, যেখানে কোথাও কোথাও বরফের স্তর দুই মাইলেরও বেশি পুরু। চরম প্রতিকূল ও বরফাবৃত এই পরিবেশে প্রাণ ধারণের উপযোগী পরিবেশ না থাকলেও কিছু প্রাণী টিকে রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হলো পেঙ্গুইন পাখি। এরা অত্যন্ত ঠান্ডা আবহাওয়া পছন্দ করে এবং বিষুব রেখার দক্ষিণ গোলার্ধে বিপুল পরিমাণে এদের দেখা মেলে। অ্যান্টার্কটিকায় প্রায় ১৭ প্রজাতির পেঙ্গুইন রয়েছে, যেগুলো আকার, গঠন ও রঙের বৈচিত্র্যের কারণে সহজেই আলাদা করা যায়।
প্রজাতিগতভাবে পাখি হলেও পেঙ্গুইনের ওড়ার কোনো ক্ষমতা নেই। তবে জলচর পাখিদের মধ্যে এরা সবচেয়ে পটু ও দ্রুতগতির সাঁতারু। ডুব সাঁতারে এরা সিল মাছের মতোই দ্রুতগতিতে চলতে পারে। হাঁসের মতো এদের পায়ের আঙুলগুলো নরম ও পাতলা চামড়ায় জোড়া থাকে এবং ডানায় কোনো আলাদা পালক না থাকায় তা মাছের ডানার মতো রূপ নিয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, লাখ লাখ বছর আগে এরা উড়তে পারলেও সময়ের বিবর্তনে পানির ধারে বসবাস এবং ছোট জলজ প্রাণী শিকারের অভ্যাসের কারণে ওড়ার ক্ষমতা হারিয়ে সাঁতারে পারদর্শী হয়ে উঠেছে। ডাঙায় এরা খাড়া হয়ে হাঁটতে পারে এবং মূলত মাছই এদের প্রধান খাদ্য।
পেঙ্গুইনদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আকারের প্রজাতি হলো কিং পেঙ্গুইন, যা সোজা হয়ে দাঁড়ালে প্রায় চার ফুট পর্যন্ত উঁচু হয় এবং ওজন হতে পারে ৬০ থেকে ৯০ পাউন্ড। এগুলোর পিঠ কুচকুচে কালো ও বুক-পেট ধবধবে সাদা হয়। রাজা পেঙ্গুইন উচ্চতায় তিন ফুট পর্যন্ত হয় এবং সাধারণত একটি করে ডিম পাড়ে, যা তারা নিজেদের চওড়া পায়ের পাতার ওপর রেখে তা দেয়। এ ছাড়া দক্ষিণ মেরুর উত্তরের দ্বীপগুলোতে ‘ক্লাউন’ নামের আরেক প্রজাতির পেঙ্গুইন বাস করে, যাদের উচ্চতা দুই ফুট এবং মাথায় সোনালী ও কালো পালকের বিশেষ বৈচিত্র্য থাকে।
পেঙ্গুইনরা মূলত দলবদ্ধভাবে বসবাস করতে পছন্দ করে। বাসা বেঁধে ডিম পাড়ার সময় তারা দলপতির পেছনে দীর্ঘ লাইন ধরে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যায়, যে লাইনে একশ থেকে শুরু করে হাজার হাজার পেঙ্গুইন একসঙ্গে পথ চলে। অনুকূল পরিবেশ ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছানোর পর তারা সম্মিলিতভাবে আস্তানা গড়ে তোলে।


























