Dhaka ০২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

বরফের দেশের অনন্য পাখি পেঙ্গুইন

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:০০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১০ বার দেখা হয়েছে

দক্ষিণ মেরু বা অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের পুরোটাই বরফে ঢাকা, যেখানে কোথাও কোথাও বরফের স্তর দুই মাইলেরও বেশি পুরু। চরম প্রতিকূল ও বরফাবৃত এই পরিবেশে প্রাণ ধারণের উপযোগী পরিবেশ না থাকলেও কিছু প্রাণী টিকে রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হলো পেঙ্গুইন পাখি। এরা অত্যন্ত ঠান্ডা আবহাওয়া পছন্দ করে এবং বিষুব রেখার দক্ষিণ গোলার্ধে বিপুল পরিমাণে এদের দেখা মেলে। অ্যান্টার্কটিকায় প্রায় ১৭ প্রজাতির পেঙ্গুইন রয়েছে, যেগুলো আকার, গঠন ও রঙের বৈচিত্র্যের কারণে সহজেই আলাদা করা যায়।

প্রজাতিগতভাবে পাখি হলেও পেঙ্গুইনের ওড়ার কোনো ক্ষমতা নেই। তবে জলচর পাখিদের মধ্যে এরা সবচেয়ে পটু ও দ্রুতগতির সাঁতারু। ডুব সাঁতারে এরা সিল মাছের মতোই দ্রুতগতিতে চলতে পারে। হাঁসের মতো এদের পায়ের আঙুলগুলো নরম ও পাতলা চামড়ায় জোড়া থাকে এবং ডানায় কোনো আলাদা পালক না থাকায় তা মাছের ডানার মতো রূপ নিয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, লাখ লাখ বছর আগে এরা উড়তে পারলেও সময়ের বিবর্তনে পানির ধারে বসবাস এবং ছোট জলজ প্রাণী শিকারের অভ্যাসের কারণে ওড়ার ক্ষমতা হারিয়ে সাঁতারে পারদর্শী হয়ে উঠেছে। ডাঙায় এরা খাড়া হয়ে হাঁটতে পারে এবং মূলত মাছই এদের প্রধান খাদ্য।

পেঙ্গুইনদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আকারের প্রজাতি হলো কিং পেঙ্গুইন, যা সোজা হয়ে দাঁড়ালে প্রায় চার ফুট পর্যন্ত উঁচু হয় এবং ওজন হতে পারে ৬০ থেকে ৯০ পাউন্ড। এগুলোর পিঠ কুচকুচে কালো ও বুক-পেট ধবধবে সাদা হয়। রাজা পেঙ্গুইন উচ্চতায় তিন ফুট পর্যন্ত হয় এবং সাধারণত একটি করে ডিম পাড়ে, যা তারা নিজেদের চওড়া পায়ের পাতার ওপর রেখে তা দেয়। এ ছাড়া দক্ষিণ মেরুর উত্তরের দ্বীপগুলোতে ‘ক্লাউন’ নামের আরেক প্রজাতির পেঙ্গুইন বাস করে, যাদের উচ্চতা দুই ফুট এবং মাথায় সোনালী ও কালো পালকের বিশেষ বৈচিত্র্য থাকে।

পেঙ্গুইনরা মূলত দলবদ্ধভাবে বসবাস করতে পছন্দ করে। বাসা বেঁধে ডিম পাড়ার সময় তারা দলপতির পেছনে দীর্ঘ লাইন ধরে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যায়, যে লাইনে একশ থেকে শুরু করে হাজার হাজার পেঙ্গুইন একসঙ্গে পথ চলে। অনুকূল পরিবেশ ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছানোর পর তারা সম্মিলিতভাবে আস্তানা গড়ে তোলে।

জনপ্রিয়

পুলিশকে মাত্রাতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের সংস্কৃতি থেকে বের করে আনা হয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

বরফের দেশের অনন্য পাখি পেঙ্গুইন

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:০০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

দক্ষিণ মেরু বা অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের পুরোটাই বরফে ঢাকা, যেখানে কোথাও কোথাও বরফের স্তর দুই মাইলেরও বেশি পুরু। চরম প্রতিকূল ও বরফাবৃত এই পরিবেশে প্রাণ ধারণের উপযোগী পরিবেশ না থাকলেও কিছু প্রাণী টিকে রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হলো পেঙ্গুইন পাখি। এরা অত্যন্ত ঠান্ডা আবহাওয়া পছন্দ করে এবং বিষুব রেখার দক্ষিণ গোলার্ধে বিপুল পরিমাণে এদের দেখা মেলে। অ্যান্টার্কটিকায় প্রায় ১৭ প্রজাতির পেঙ্গুইন রয়েছে, যেগুলো আকার, গঠন ও রঙের বৈচিত্র্যের কারণে সহজেই আলাদা করা যায়।

প্রজাতিগতভাবে পাখি হলেও পেঙ্গুইনের ওড়ার কোনো ক্ষমতা নেই। তবে জলচর পাখিদের মধ্যে এরা সবচেয়ে পটু ও দ্রুতগতির সাঁতারু। ডুব সাঁতারে এরা সিল মাছের মতোই দ্রুতগতিতে চলতে পারে। হাঁসের মতো এদের পায়ের আঙুলগুলো নরম ও পাতলা চামড়ায় জোড়া থাকে এবং ডানায় কোনো আলাদা পালক না থাকায় তা মাছের ডানার মতো রূপ নিয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, লাখ লাখ বছর আগে এরা উড়তে পারলেও সময়ের বিবর্তনে পানির ধারে বসবাস এবং ছোট জলজ প্রাণী শিকারের অভ্যাসের কারণে ওড়ার ক্ষমতা হারিয়ে সাঁতারে পারদর্শী হয়ে উঠেছে। ডাঙায় এরা খাড়া হয়ে হাঁটতে পারে এবং মূলত মাছই এদের প্রধান খাদ্য।

পেঙ্গুইনদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আকারের প্রজাতি হলো কিং পেঙ্গুইন, যা সোজা হয়ে দাঁড়ালে প্রায় চার ফুট পর্যন্ত উঁচু হয় এবং ওজন হতে পারে ৬০ থেকে ৯০ পাউন্ড। এগুলোর পিঠ কুচকুচে কালো ও বুক-পেট ধবধবে সাদা হয়। রাজা পেঙ্গুইন উচ্চতায় তিন ফুট পর্যন্ত হয় এবং সাধারণত একটি করে ডিম পাড়ে, যা তারা নিজেদের চওড়া পায়ের পাতার ওপর রেখে তা দেয়। এ ছাড়া দক্ষিণ মেরুর উত্তরের দ্বীপগুলোতে ‘ক্লাউন’ নামের আরেক প্রজাতির পেঙ্গুইন বাস করে, যাদের উচ্চতা দুই ফুট এবং মাথায় সোনালী ও কালো পালকের বিশেষ বৈচিত্র্য থাকে।

পেঙ্গুইনরা মূলত দলবদ্ধভাবে বসবাস করতে পছন্দ করে। বাসা বেঁধে ডিম পাড়ার সময় তারা দলপতির পেছনে দীর্ঘ লাইন ধরে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যায়, যে লাইনে একশ থেকে শুরু করে হাজার হাজার পেঙ্গুইন একসঙ্গে পথ চলে। অনুকূল পরিবেশ ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছানোর পর তারা সম্মিলিতভাবে আস্তানা গড়ে তোলে।