বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের মন্তব্য করেছেন যে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের শরিক দল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের পক্ষ নিয়েছে। তিনি দাবি করেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধার প্রতিবাদ না করে এনসিপি নীরব সমর্থন দিয়েছে।
রবিবার নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আব্দুল কাদের এমন মন্তব্য করেন। তিনি জানান, গণ-অভ্যুত্থানের ধ্বজাধারী এনসিপির রাজনীতি নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন মনে করেন না তিনি। তবে ইতিহাসের দায়ে কিছু বিষয়ে নোকতা দিয়ে রাখা জরুরি।
পিরোজপুরে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে কাদের বলেন, এমন অমানবিক ঘটনার পর এনসিপি সাংগঠনিকভাবে সম্পূর্ণ নির্বিকার ও নির্লিপ্ত ছিল। আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি তো দূরে থাক, কোনো একজন নেতা সোশ্যাল মিডিয়াতেও একটি টুঁ শব্দ করেননি। মৃত ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এ ক্ষেত্রে এনসিপি তাদের শরিক দল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের পক্ষ নিয়েছে এবং নীরব সমর্থন দিয়েছে। অথচ তারা নাকি মুক্তিযুদ্ধকে ওউন করেন। এটিই তাদের ওউন করার নমুনা।
আব্দুল কাদের আরও দাবি করেন, সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচিত গরুভোজের নেতৃত্বে এনসিপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যসচিব ছিলেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের আয়োজক কারা? অথচ ছাত্রশক্তি-শিবির এবং মজলিসের এমন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের পর এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম দাবি করেছেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ হওয়ার ক্রেডিট নাকি বিরোধী দলের; সরকারের না।
কাদের দাবি করেন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে নারীকে ফ্লাইং কিক থেকে শুরু করে জামায়াত নেতা গাজী নজরুলের বিকৃত যৌনলালসার শিকার হয়ে জীবন দেওয়া সেই অসহায় তরুণী— এমন নিপীড়িত-নির্যাতিত কোনো নারীর পক্ষে এনসিপির নারী নেতৃত্ব কিংবা দলীয় নেতারা টুঁ শব্দ করেননি। তিনি বলেন, ভিকটিমদের পাশে দাঁড়ায়নি; তারা রাজনৈতিক কারণে আন্দোলন করেছিল হাতিয়ায় শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার জেরে ধর্ষণের মিথ্যা প্রোপাগান্ডার ঘটনায়। অথচ তাদের নতুন বন্দোবস্তে নাকি নারীদের অধিকার রক্ষার বিষয়টি অগ্রভাগে।
আব্দুল কাদের বলেন, মাদরাসায় এত এত শিশু বিকৃত যৌনলালসার শিকার হচ্ছেন, এ ব্যাপারে এনসিপি নেতাদের মুখে কোনো রা নেই। এটাই হচ্ছে জামায়াত পরিচালনাধীন এনসিপির মধ্যপন্থী রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, নারীর অধিকার রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ এবং সর্বোপরি নতুন বন্দোবস্তের নমুনা।


























