অন্য কোনো নিবন্ধিত চিকিৎসকের ব্যক্তিগত নাম এবং তাঁর ব্যবহৃত প্রেসক্রিপশন প্যাড অবৈধভাবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ রোগীদের সাথে প্রতারণা ও চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মো. আরিফ নামের এক ভুয়া ডাক্তারকে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯ শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল।
গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের ব্যস্ততম শায়েস্তানগর ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকার ‘মধুমতি ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এ অতর্কিত অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
স্থানীয় ও দাপ্তরিক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি অত্যন্ত সুকৌশলে ডা. মীর মাহবুবুর রহমান নামক একজন প্রকৃত চিকিৎসকের সিল ও প্যাড জালিয়াতি করে সেখানে আসা নিরীহ রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলেন। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি তিনি রোগীদের বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় ও মনগড়া প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষাও লিখে দিচ্ছিলেন।
হবিগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডা. শরীফ মো. সানজিদ জামান আদনান গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, গোপন সূত্রে প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-এর চৌকস সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে শহরের মধুমতি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। সেই সময় টাঙ্গাইল জেলার স্থায়ী বাসিন্দা মো. আরিফ নিজেকে একজন এমবিবিএস পাস করা চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেম্বারে বসে রোগীদের চিকিৎসা সেবা পরিচালনা করছিলেন।
অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযুক্ত আরিফের কাছে তাঁর পেশাগত চিকিৎসক পরিচয় এবং বৈধ উপায়ে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার সপক্ষে কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কাগজপত্র বা সনদ দেখতে চাইলে তিনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন। এর ফলে তাঁর চিকিৎসা সেবার বৈধতা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ ও প্রশ্ন তৈরি হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসনকে অবগত করা হলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল নাদরুর বিন আকন। প্রশাসনের উপস্থিতিতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর আটককৃত মো. আরিফের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয় এবং পরবর্তীতে তাকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
ডা. শরীফ মো. সানজিদ জামান আদনান আরও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান, “মধুমতি ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ জেনেশুনে কেন বা কী উদ্দেশ্যে একজন ভুয়া চিকিৎসককে দিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করাচ্ছিল, সে বিষয়টি আমরা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছি। অতি শীঘ্রই জেলা সিভিল সার্জনের সাথে পরামর্শপূর্বক ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


























