Dhaka ০৯:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

শিল্প ও বন্দরকেন্দ্রিক চাপে বিপর্যস্ত সীতাকুণ্ডের মহাসড়ক, বিকল্প মেরিন ড্রাইভের অপেক্ষায়

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২ বার দেখা হয়েছে

শিল্পায়ন ও বন্দরকেন্দ্রিক পণ্য পরিবহনের তীব্র চাপে দিনদিন বিপজ্জনকভাবে ভারী হয়ে উঠছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশ। মিরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর থেকে আসা ভারী যান, সীতাকুণ্ডের স্থানীয় শিল্পকারখানার পণ্যবাহী ট্রাক এবং চট্টগ্রাম বন্দরমুখী ও বন্দর থেকে দেশজুড়ে ছুটে চলা কাভার্ড ভ্যানের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। মহাসড়কের ওপর এই অতিরিক্ত গাড়ি ও একক নির্ভরতার কারণে সামান্য দুর্ঘটনা কিংবা একটিমাত্র যান বিকল হলেই দীর্ঘ পথজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে জরুরি যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর থেকে এই মরণপণ চাপ কমাতে উপকূল ধরে ১৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বিকল্প মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্টাডি এবং ডিজাইন-ড্রয়িংয়ের কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই মেরিন ড্রাইভটি মিরসরাই থেকে শুরু হয়ে সীতাকুণ্ড উপকূলীয় এলাকা ধরে আনোয়ারা, বাঁশখালী, পেকুয়া ও মাতারবাড়ী হয়ে পর্যটন নগরী কক্সবাজার পর্যন্ত সংযোগ স্থাপন করবে। এর মূল লক্ষ্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিকল্প একটি শক্তিশালী ও যুগোপযোগী যোগাযোগ করিডোর গড়ে তোলা।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী প্রকৌশলী মইদুল ইসলাম বলেন, সওজের পক্ষ থেকে প্রকল্পটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এখন সরকারের চূড়ান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলেই পরবর্তী প্রশাসনিক ও নির্মাণ প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

বর্তমানে মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডে ইস্পাত এবং জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করণসহ বিভিন্ন ভারী শিল্পের কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য পরিবহনের জন্য এই মহাসড়কটিই একমাত্র ভরসা। এর সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর, বেটার্মিনাল, কর্ণফুলী টানেল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম যুক্ত হওয়ায় মহাসড়কের ওপর চাপ আরো বহুগুণ বাড়ছে। বিশেষ করে মাতারবাড়ীকে ঘিরে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারমুখী পণ্য পরিবহনে বিকল্প রুটের প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি। মেরিন ড্রাইভটি বাস্তবায়িত হলে পণ্যবাহী যানবাহনের একটি বড় অংশ এই বিকল্প পথ ব্যবহারের সুযোগ পাবে। সমুদ্রঘেঁষা সড়কের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব ও রক্ষণাবেক্ষণও একটি বড় কারিগরি চ্যালেঞ্জ।

উপকূলীয় অঞ্চলে শিল্পায়ন ও বাণিজ্যের গতি মোটেও থেমে নেই। কিন্তু সেই তুলনায় থমকে আছে যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন। ফিজিবিলিটি স্টাডি ও নকশা প্রস্তুত থাকার পরও ১৭২ কিলোমিটারের এই স্বপ্নের মেরিন ড্রাইভ প্রকল্পটি এখন কেবল সরকারের একটি সবুজ সংকেত বা নীতিগত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

শিল্প ও বন্দরকেন্দ্রিক চাপে বিপর্যস্ত সীতাকুণ্ডের মহাসড়ক, বিকল্প মেরিন ড্রাইভের অপেক্ষায়

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

শিল্পায়ন ও বন্দরকেন্দ্রিক পণ্য পরিবহনের তীব্র চাপে দিনদিন বিপজ্জনকভাবে ভারী হয়ে উঠছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশ। মিরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর থেকে আসা ভারী যান, সীতাকুণ্ডের স্থানীয় শিল্পকারখানার পণ্যবাহী ট্রাক এবং চট্টগ্রাম বন্দরমুখী ও বন্দর থেকে দেশজুড়ে ছুটে চলা কাভার্ড ভ্যানের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। মহাসড়কের ওপর এই অতিরিক্ত গাড়ি ও একক নির্ভরতার কারণে সামান্য দুর্ঘটনা কিংবা একটিমাত্র যান বিকল হলেই দীর্ঘ পথজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে জরুরি যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর থেকে এই মরণপণ চাপ কমাতে উপকূল ধরে ১৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বিকল্প মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্টাডি এবং ডিজাইন-ড্রয়িংয়ের কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই মেরিন ড্রাইভটি মিরসরাই থেকে শুরু হয়ে সীতাকুণ্ড উপকূলীয় এলাকা ধরে আনোয়ারা, বাঁশখালী, পেকুয়া ও মাতারবাড়ী হয়ে পর্যটন নগরী কক্সবাজার পর্যন্ত সংযোগ স্থাপন করবে। এর মূল লক্ষ্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিকল্প একটি শক্তিশালী ও যুগোপযোগী যোগাযোগ করিডোর গড়ে তোলা।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী প্রকৌশলী মইদুল ইসলাম বলেন, সওজের পক্ষ থেকে প্রকল্পটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এখন সরকারের চূড়ান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলেই পরবর্তী প্রশাসনিক ও নির্মাণ প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

বর্তমানে মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডে ইস্পাত এবং জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করণসহ বিভিন্ন ভারী শিল্পের কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য পরিবহনের জন্য এই মহাসড়কটিই একমাত্র ভরসা। এর সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর, বেটার্মিনাল, কর্ণফুলী টানেল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম যুক্ত হওয়ায় মহাসড়কের ওপর চাপ আরো বহুগুণ বাড়ছে। বিশেষ করে মাতারবাড়ীকে ঘিরে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারমুখী পণ্য পরিবহনে বিকল্প রুটের প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি। মেরিন ড্রাইভটি বাস্তবায়িত হলে পণ্যবাহী যানবাহনের একটি বড় অংশ এই বিকল্প পথ ব্যবহারের সুযোগ পাবে। সমুদ্রঘেঁষা সড়কের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব ও রক্ষণাবেক্ষণও একটি বড় কারিগরি চ্যালেঞ্জ।

উপকূলীয় অঞ্চলে শিল্পায়ন ও বাণিজ্যের গতি মোটেও থেমে নেই। কিন্তু সেই তুলনায় থমকে আছে যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন। ফিজিবিলিটি স্টাডি ও নকশা প্রস্তুত থাকার পরও ১৭২ কিলোমিটারের এই স্বপ্নের মেরিন ড্রাইভ প্রকল্পটি এখন কেবল সরকারের একটি সবুজ সংকেত বা নীতিগত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।