ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ পৌরসভার কাশিপুর এলাকায় সামাজিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের অন্তত ২০টি বসতবাড়ি এবং ৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।
গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত এলাকাটিতে থেমে থেমে এই বিধ্বংসী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘাতের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসা, ডাকাতিসহ নানামুখী সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য দীর্ঘদিন ধরে এলাকাচ্যুত ছিলেন স্থানীয় রেজাউল ইসলাম ওরফে রেজা ডাকাত। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর রেজাউল ইসলাম তাঁর অনুসারী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে পুনরায় এলাকায় ফিরে আসেন। পরবর্তীতে এলাকায় একক প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মকলেছ হোসেনের সমর্থকদের সাথে তাঁদের মনস্তাত্ত্বিক ও প্রশাসনিক বিরোধের সৃষ্টি হয়। এই পুরোনো বিরোধের জের ধরে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় কাশিপুর ক্লাব মোড় এলাকায় প্রতিপক্ষের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় রেজাউল ইসলামের সমর্থকরা, যা পরবর্তীতে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ও স্বাভাবিক রয়েছে। সংঘাতময় স্থান ও কাশিপুর বেঁদেপল্লীতে নতুন করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ওসি আরও উল্লেখ করেন, বেঁদেপল্লীর অভ্যন্তরে আধিপত্য নিয়ে এ ধরনের হামলার ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। সার্বিক অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিতিশীল পরিবেশ নিরসনে এলাকার রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় বেঁদেপল্লীর নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের নিয়ে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যৌথভাবে বসে একটি স্থায়ী ও স্থানীয় সমঝোতা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

























