Dhaka ০৯:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেবে জাপান, আগামী এপ্রিলে নিয়োগ শুরু

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:৫৫:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৩ বার দেখা হয়েছে

চলতি বছরের শেষভাগে এসে প্রবাসী আইনি কাঠামোর এক বিশাল ইতিবাচক অগ্রগতিতে বাংলাদেশ থেকে নতুন করে কর্মী নিয়োগের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সূর্যোদয়ের দেশ জাপান। উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (ইএসডিপি-এমওসি) অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশি দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মীদের জাপানে নিয়োগ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করবে সূর্যোদয়ের দেশটি। স্বাক্ষরিত এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটির প্রাথমিক মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ বছর, যা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছরের জন্য সম্প্রসারিত হবে।

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব এবং জাপান সরকারের পক্ষে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিবৃন্দ নিজ নিজ দেশের পক্ষে এই যুগান্তকারী চুক্তিতে সই করেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ঢাকা ও টোকিওর কূটনৈতিক এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রায় এক বছরের দীর্ঘ ও নিরলস প্রচেষ্টার ফলশ্রুতেই চুক্তিটির খসড়া চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়েছে। এই ঐতিহাসিক সমঝোতার মাধ্যমে দুই বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি জাপানের উদীয়মান শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির জন্য এক অভূতপূর্ব সুযোগের উন্মোচন ঘটল।

জানা গেছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন উচ্চপর্যায়ের জাপান সফরকালে আয়োজিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক অনুলিপি হস্তান্তর ও বিনিময় করা হবে।

স্বাক্ষরিত চুক্তির নানা ইতিবাচক সুবিধার কথা তুলে ধরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এই সমঝোতার ফলে একদিকে যেমন জাপানে গমনকারী বাংলাদেশি শ্রমিকদের সর্বাত্মক আইনি অধিকার ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হবে, অন্যদিকে প্রবাসী কর্মী পাঠানো ও গ্রহণের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যকার প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। উন্নত প্রযুক্তির দেশ জাপানে কর্মসংস্থানের এই স্বর্ণালী সুযোগ বাংলাদেশি নাগরিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে, আকর্ষণীয় উচ্চ বেতন প্রাপ্তিতে এবং ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদে পরিবারসহ বসবাস করার ক্ষেত্র তৈরিতে বিরাট ভূমিকা রাখবে।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে যুক্ত করেন যে, চুক্তির বিধান অনুযায়ী জাপানে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানি স্থানীয় শ্রমিকদের মতোই সমান আইনি সুরক্ষা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ কর্মীদের সমান অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টিও এতে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রাধান্য পেয়েছে। বিশেষ করে কোনো নারী বিদেশি কর্মী অন্তঃসত্ত্বা হলে কিংবা সন্তান জন্মদান করলে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা বা তাঁর সাথে কোনো প্রকার সামাজিক বা আর্থিক বৈষম্যমূলক আচরণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি এসব অজুহাতে জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সুযোগও রাখা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও শ্রম বাজার বিশ্লেষকেরা আশা প্রকাশ করছেন যে, এই সমঝোতা স্মারকটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাপানের মতো উন্নত দেশে বাংলাদেশি তরুণদের জন্য একটি নিরাপদ, সুরক্ষিত ও অতীব সম্ভাবনাময় কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সাথে দেশের দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ-জাপান সুদীর্ঘ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেবে জাপান, আগামী এপ্রিলে নিয়োগ শুরু

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:৫৫:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

চলতি বছরের শেষভাগে এসে প্রবাসী আইনি কাঠামোর এক বিশাল ইতিবাচক অগ্রগতিতে বাংলাদেশ থেকে নতুন করে কর্মী নিয়োগের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সূর্যোদয়ের দেশ জাপান। উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (ইএসডিপি-এমওসি) অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশি দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মীদের জাপানে নিয়োগ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করবে সূর্যোদয়ের দেশটি। স্বাক্ষরিত এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটির প্রাথমিক মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ বছর, যা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছরের জন্য সম্প্রসারিত হবে।

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব এবং জাপান সরকারের পক্ষে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিবৃন্দ নিজ নিজ দেশের পক্ষে এই যুগান্তকারী চুক্তিতে সই করেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ঢাকা ও টোকিওর কূটনৈতিক এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রায় এক বছরের দীর্ঘ ও নিরলস প্রচেষ্টার ফলশ্রুতেই চুক্তিটির খসড়া চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়েছে। এই ঐতিহাসিক সমঝোতার মাধ্যমে দুই বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি জাপানের উদীয়মান শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির জন্য এক অভূতপূর্ব সুযোগের উন্মোচন ঘটল।

জানা গেছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন উচ্চপর্যায়ের জাপান সফরকালে আয়োজিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক অনুলিপি হস্তান্তর ও বিনিময় করা হবে।

স্বাক্ষরিত চুক্তির নানা ইতিবাচক সুবিধার কথা তুলে ধরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এই সমঝোতার ফলে একদিকে যেমন জাপানে গমনকারী বাংলাদেশি শ্রমিকদের সর্বাত্মক আইনি অধিকার ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হবে, অন্যদিকে প্রবাসী কর্মী পাঠানো ও গ্রহণের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যকার প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। উন্নত প্রযুক্তির দেশ জাপানে কর্মসংস্থানের এই স্বর্ণালী সুযোগ বাংলাদেশি নাগরিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে, আকর্ষণীয় উচ্চ বেতন প্রাপ্তিতে এবং ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদে পরিবারসহ বসবাস করার ক্ষেত্র তৈরিতে বিরাট ভূমিকা রাখবে।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে যুক্ত করেন যে, চুক্তির বিধান অনুযায়ী জাপানে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানি স্থানীয় শ্রমিকদের মতোই সমান আইনি সুরক্ষা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ কর্মীদের সমান অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টিও এতে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রাধান্য পেয়েছে। বিশেষ করে কোনো নারী বিদেশি কর্মী অন্তঃসত্ত্বা হলে কিংবা সন্তান জন্মদান করলে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা বা তাঁর সাথে কোনো প্রকার সামাজিক বা আর্থিক বৈষম্যমূলক আচরণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি এসব অজুহাতে জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সুযোগও রাখা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও শ্রম বাজার বিশ্লেষকেরা আশা প্রকাশ করছেন যে, এই সমঝোতা স্মারকটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাপানের মতো উন্নত দেশে বাংলাদেশি তরুণদের জন্য একটি নিরাপদ, সুরক্ষিত ও অতীব সম্ভাবনাময় কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সাথে দেশের দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ-জাপান সুদীর্ঘ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।