রাজধানীর ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যান প্রাঙ্গণে সদ্য নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’-এর ফলক আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধন পর্বকালে বৈষম্যবিরোধী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মহান শহীদদের পরিবার ও বীর আহত যোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে নতুন বাংলাদেশ গঠনে রাজনৈতিক দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সর্বস্তরের মানুষকে একসাথে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানী ঢাকার ওসমানী উদ্যান প্রাঙ্গণে আয়োজিত বর্ণাঢ্য এই সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির আসন থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা ব্যক্ত করেন।
ঐতিহাসিক এই অনুষ্ঠানের সূচনালগ্নে প্রধানমন্ত্রী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অকাতরে প্রাণ বিসর্জন দেওয়া বীর শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শাহারিয়ার খাঁন আনাসের রত্নগর্ভা মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং শহীদ ওয়াসিম আকরামের সম্মানিত পিতা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সসম্মানে সাথে নিয়ে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’-এর শুভ উদ্বোধন সম্পন্ন করেন। নবনির্মিত এই দৃষ্টিনন্দন স্মৃতিস্তম্ভটিতে জুলাই আন্দোলনের মোট ৮১৩ জন বীর শহীদ যোদ্ধার নাম চিরস্থায়ীভাবে সংরক্ষিত করা হয়েছে।
উদ্বোধনী পর্বের বক্তব্যে আবেগপ্লুত প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনের বীর শহীদদের মূল জাতীয় লক্ষ্য ছিল সম্পূর্ণ এক ও অভিন্ন—যার মূল ভিত্তি হলো এ দেশের সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, মানসম্মত সুশিক্ষা, সুচিকিৎসার নিশ্চয়তা, বেকারদের কর্মসংস্থান এবং সবার জন্য নিরাপদ জীবনযাত্রার পরিবেশ নিশ্চিত করা।”
তিনি আরও জোর দিয়ে স্মরণ করিয়ে দেন, “আজকের এই অর্জিত বাংলাদেশ সম্পূর্ণ একটি গণতান্ত্রিক ও জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দল পাশাপাশি অবস্থান করবে, এটাই বহুদলীয় গণতন্ত্রের স্বাভাবিক নিয়ম। তবে বিরোধী দল হওয়ার অর্থ কেবল সবকিছুর অন্ধ বিরোধিতা করা নয়, বরং সেই সমালোচনা হতে হবে সম্পূর্ণ গঠনমূলক ও জনকল্যাণমুখী।” তবে জাতীয় উদ্যানের এই তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ সত্ত্বেও বিরোধী দলের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না হওয়ায় এবং জুলাই শহীদ পরিবারের পাশে এসে না দাঁড়ানোয় গভীর দুঃখ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষার ওপর বিশেষ আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে জানান, ওসমানী উদ্যানের সার্বিক আধুনিকায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে প্রকৃতির পরম সৌন্দর্যের ওপর যেন কোনো ধরনের আঁচড় না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। একই সাথে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি হাসপাতাল এবং সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন ভবনগুলোতে কাঙ্ক্ষিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে চিকিৎসক এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ও সচেতন হওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
দেশজুড়ে সাম্প্রতিক ডেঙ্গু পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক বৃদ্ধি প্রসঙ্গে দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও মতের মানুষের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “ক্ষতিকর এডিস মশা কিন্তু রাজনৈতিক সরকারি দল বা বিরোধী দল চিনে কামড়ায় না। তাই প্রাণঘাতী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে যাবতীয় রাজনৈতিক বিভেদ ও দূরত্ব ভুলে অবিলম্বে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে চারপাশের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ঝাঁপিয়ে পড়ার বিনীত আহ্বান জানাই।”






















