নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসার কথা বলে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক স্থানীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার বিবরণ: মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে স্থানীয় হাসানহাট বাজারে আলমগীরের ওষুধের দোকানে যায় ওই শিশুটি। আলমগীর ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁকও করতেন। মাথাব্যথা ভালো করে দেওয়ার কথা বলে তিনি শিশুটিকে দোকানের পেছনের একটি কক্ষে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে শিশুটি অসুস্থতা ও শরীরে ব্যথা অনুভব করলে পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদে সে পুরো বিষয়টি খুলে বলে। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্ত ও দলীয় প্রতিক্রিয়া: গ্রেপ্তার মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাবেক বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি দলীয় দায়িত্বে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলীয় কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত নন। তবে অভিযুক্ত আলমগীরের দাবি, ঝাড়ফুঁকের বিষয় নিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বিরোধ ছিল এবং একটি চক্র টাকা না পেয়ে ভুক্তভোগী শিশুকে শিখিয়ে ও উসকানি দিয়ে এই মিথ্যা মামলা করিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতিসহ আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


























