পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে প্রশাসনের ঢিলেঢালা অভিযানের সুযোগে পায়রা নদীতে মা ইলিশ শিকারের রীতিমতো মহোৎসব চলছে। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জেলেরা নদীতে দিন-রাত ইলিশ শিকারে ব্যস্ত থাকলেও এ যেন দেখার কেউ নেই। ইলিশ কেনার জন্য নদীর পারে ক্রেতারা ভিড় করছেন, তবে পরিচিত ছাড়া কারো কাছে বিক্রি করছেন না জেলেরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ বছর মা ইলিশ ধরা রুখতে নিষেধাজ্ঞাকালীন প্রশাসনের তৎপরতা এতটা ঢিলেঢালা, যা নজিরবিহীন। বিগত বছরগুলোতে প্রশাসনের কড়া নজরদারি ছিল এবং প্রকাশ্যে এভাবে ইলিশ শিকার করতে পারত না। তাদের দাবি, স্পিডবোটের শব্দ শুনলেই জেলেরা দ্রুত জাল তুলে নৌকা নিয়ে কিনারে অবস্থান করতো। কিন্তু এখন স্পিডবোট নদীর মাঝখানে এসে অল্প সময় ভাসমান অবস্থায় থেকে, পুনরায় চলে যায়, জেলেদের ধাওয়া করা হয় না।
জানা গেছে, মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়ন থেকে মজিদবাড়িয়া পর্যন্ত পায়রা নদীর প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে রামপুর, ভিকাখালী, পিপড়াখালী, মনোহরখালী, গোলখালী, চরখালী, মাটিভাংগা, ভুতুম্মাসহ কমপক্ষে ১০টি পয়েন্টে চলছে মা ইলিশ ধরার মহোৎসব। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শতাধিক জেলে প্রকাশ্যে ইলিশ শিকার করছে।
শুক্রবার বিকেলে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জেলেদের ইলিশ শিকারের মহোৎসব। রামপুর থেকে ভিকাখালী পর্যন্ত প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি নৌকায় জেলেরা মা ইলিশ শিকার করছে। ভিডিও করতে গেলে বিষয়টি টের পেয়ে নৌকার ইঞ্জিন চালু করে তারা নদীর মাঝখানে চলে যায়। দেখে মনে হয়, নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি তারা জানেনই না।
রামপুর গ্রামের বাসিন্দা জলিলুর রহমান শিকদার অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো জোরালো অভিযান চালানো হচ্ছে না। নিষেধাজ্ঞার শুরু থেকে দিন-রাত জেলেরা নদীতে মাছ ধরেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মৎস্য, কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশের লোকজন অভিযানে বের হওয়ার আগেই কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং ট্রলার ও স্পিডবোর্ডের মাঝিরা জেলেদের আগাম বার্তা দিয়ে দেন। এতে অভিযানের আগেই মাছ শিকার করে জেলেরা নৌকা নিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু জেলে জানান, ‘নিষেধাজ্ঞা কেউই মানছে না। সবাই ধরে তাই আমরাও ধরি। নিষেধাজ্ঞাকালীন ইলিশ বেশি পাওয়া যায়।’ তবে তাদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞাকালীন প্রকৃত জেলেরা অনুদান পান না। অন্য পেশায় যারা আছেন, তারাই বিভিন্ন উপায়ে জেলে তালিকায় নাম দিয়ে অনুদান পেয়ে যান।






















