ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর সদর দপ্তরে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার মাধ্যমে তারা নিজেদের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতার জানান দিয়েছে। একই সঙ্গে, কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিকটবর্তী ইয়েমেনি ভূখণ্ডেও হুথিরা তাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গত এক দশকে সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলার মুখেও হুথিদের সামরিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও উন্নত অস্ত্রের সহায়তা পাচ্ছে এই গোষ্ঠী।
বর্তমানে হুথিদের হাতে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং জাহাজবিধ্বংসী অস্ত্রের বিস্তৃত মজুত রয়েছে। এসব অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে তারা উপসাগরীয় দেশগুলোর পাশাপাশি ইসরায়েলেও হামলা চালাতে সক্ষম। তুলনামূলক কম খরচে তৈরি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আঘাত হানতে পারছে হুথিরা, যার বিপরীতে রিয়াদকে ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
জাতিসংঘের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে হুথিদের যোদ্ধার সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে তিন লাখ ৫০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। হুথিরা নিজেদের নিয়ন্ত্রিত দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় যোদ্ধা ও সামরিক সরঞ্জাম ছড়িয়ে রেখে হামলার মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতাও বাড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক এসব হামলায় সৌদি আরবে প্রাণহানি, বিমান চলাচলে বিঘ্ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। এতে ব্যবসা, পর্যটন ও ক্রীড়া খাতের আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার সৌদি পরিকল্পনাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হুথিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান শুরু করে। বছরের পর বছর ধরে বিমান হামলা চালিয়েও বিদ্রোহীদের উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করা যায়নি। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাতে শুরু করে হুথিরা। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলও হুথিদের ওপর হামলা চালায়।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু বিমান হামলা চালিয়ে হুথিদের পরাজিত করা কঠিন। এজন্য প্রয়োজন স্থল অভিযান ও সমন্বিত সামরিক কৌশল। কিন্তু হুথিবিরোধী ইয়েমেনি শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে বিভক্ত। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনাগ্রহী বলে মনে করা হচ্ছে।























