জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতৃত্ব একসময় রাজনৈতিক কূল-কিনারা না পেয়ে সরাসরি জামায়াতে ইসলামীতেই যোগদান করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। সম্প্রতি এনসিপির এক জ্যেষ্ঠ নেতার দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের আবেদনপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে তিনি এই মন্তব্য ছুড়ে দেন।
গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) এবং ফরিদপুর অঞ্চলের সাংগঠনিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে নিয়োজিত আব্দুর রহমানের পদত্যাগপত্রটি শেয়ার করেন রাশেদ খাঁন।
ওই পোস্টের বিস্তারিত বিবরণে রাশেদ খাঁন লেখেন, “ক্যাম্পাসের ছোট ভাই মো. আব্দুর রহমান অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও তার স্বভাবের মধ্যে কোনোদিন হিংস্র আচরণ লক্ষ্য করিনি। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের দিনগুলোতে সে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে সব সম্পর্ক চুকিয়ে শেখ হাসিনা পতনের একদফা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে থাকা যেসকল তরুণ সেদিন ঘোষণা দিয়ে পদত্যাগ করে আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছিল, তাদের এই সাহসী পদক্ষেপ পুরো গণঅভ্যুত্থানকে ত্বরান্বিত ও বেগবান করতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল। তবে পদত্যাগের পর তরুণরা যেই মহৎ স্বপ্ন ও সম্ভাবনা বুকে নিয়ে এনসিপিতে যোগ দিয়েছিল, দলটি বর্তমানে তার সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে হাঁটছে। এনসিপি পুরোপুরি জামায়াতি রাজনৈতিক আদর্শ দ্বারা পরিচালিত হওয়ার দরুন একে একে সব প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ নেতা এনসিপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন এবং দল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।”
আব্দুর রহমানের উদ্দেশ্যে রাশেদ খাঁন আরও লেখেন, “তোমার ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য অনেক শুভকামনা রইলো আব্দুর রহমান। হয়তো কোনো একদিন এনসিপির নীতি-নির্ধারকরা অনুধাবন করতে পারবে যে তারা কতটা ভুল পথে হেঁটেছিল, তবে ততোদিনে যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে যাবে এবং সবকিছু ধ্বংসের মুখে পড়বে। সেই চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখে এনসিপির শীর্ষ নেতারা আর কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে শেষমেশ সরাসরি জামায়াতে ইসলামীতে গিয়েই আশ্রয় নেবে।”






















