Dhaka ০২:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

বিআরটি প্রকল্পের ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ, দ্রুত চালুর দাবি গাজীপুরবাসীর

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৩:০৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৭ বার দেখা হয়েছে

চলতি গাজীপুর-এয়ারপোর্ট বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের সামগ্রিক ভৌত কাজের প্রায় ৯৭ শতাংশ ইতোমধ্যেই সফলভাবে সমাপ্ত হলেও রহস্যজনক কারণে তা জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে না। দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর ধরে চাতক পাখির মতো পথ চেয়ে থেকেও আধুনিক ও মসৃণ গণপরিবহন সেবা থেকে বঞ্চিত থাকায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ‘গাজীপুরের সচেতন নাগরিক সমাজ’। বহু কোটি টাকার এই বৃহৎ মেগা প্রকল্পের নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলা কিংবা পুরো প্রকল্পটি পরিত্যক্ত করার মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের বদলে কালবিলম্ব না করে তা অবিলম্বে চালুর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ। একই সাথে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার মূল কারণ নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে এসব গণদাবি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে মূল লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিশিষ্ট অধ্যাপক ড. মো. খসরু মিয়া।

অধ্যাপক খসরু মিয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গাজীপুর হলো বাংলাদেশের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র, শিল্পনগরী ও অত্যন্ত জনঘনত্বপূর্ণ এলাকা। রাজধানী ঢাকার একদম সন্নিকটে অবস্থান হওয়া সত্ত্বেও কেবল দুর্বল যোগাযোগ অবকাঠামো, দীর্ঘ যাত্রাপথের ধীরগতি, তীব্র ও নিরবচ্ছিন্ন যানজট এবং অকার্যকর বাস পরিষেবার কারণে এই শিল্প অঞ্চলের অফুরন্ত সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিদিন হাজার হাজার চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ ঢাকা ও গাজীপুরের মধ্যে যাতায়াত করতে গিয়ে মহাসড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থবির হয়ে যানজটে আটকে থাকেন। এর ফলে প্রতিদিন বিপুল কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, কলকারখানার উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে এবং পণ্য পরিবহন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। সার্বিকভাবে এই রুটিন ভোগান্তি আঞ্চলিক অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নকে স্থবির করে দিচ্ছে।

দীর্ঘদিনের এই মারাত্মক জনভোগান্তি নিরসনে আধুনিক বিআরটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল উল্লেখ করে ডুয়েটের এই প্রবীণ অধ্যাপক বলেন, দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পার হয়ে গেলেও গাজীপুরবাসী কাঙ্ক্ষিত বিশ্বমানের গণপরিবহন সেবা পায়নি। তাই এই শিল্প অঞ্চলের মানুষের জন্য দ্রুতগামী, শতভাগ নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহনব্যবস্থা চালু করা এখন আর বিলাসের বিষয় নয়, বরং সময়ের অতি জরুরি দাবি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিআরটি করিডোরটি পুরোদমে চালু হলে গাজীপুর অঞ্চলজুড়ে আধুনিক আবাসন শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের ব্যাপক ইতিবাচক সম্প্রসারণ ঘটবে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মাত্র ১৫-২০ মিনিটের দূরত্বের কারণে এই অঞ্চলে বিশ্বমানের পাঁচ তারকা হোটেল, আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল এবং নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিপুল সুযোগ তৈরি হবে। এতে করে রাজধানী ঢাকার ওপর বিদ্যমান বিপুল জনসংখ্যা ও যানবাহনের চাপ একধাক্কায় অনেক কমে আসবে, যা স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে অভাবনীয় প্রভাব ফেলবে।

প্রকল্পের প্রায় ৯৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর এর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই পরিবহন বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন বা বাস পরিচালনায় যদি কোনো কারিগরি, পরিচালনাগত বা ব্যবস্থাপনাগত জটিলতা থেকে থাকে, তবে তা মেধা দিয়ে চিহ্নিত করে দ্রত সমাধান করতে হবে। পরিচালন পদ্ধতির মডেলে গলদ থাকলে তা সংশোধন করা সম্ভব এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কোনো ত্রুটি থাকলে কার্যকর সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে তার নিরসন করা যায়।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ঢাকার মেট্রো রেল সচল রাখতে ও পরিচালনায় সরকার যদি প্রতি বছর প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে প্রস্তুত থাকতে পারে, তবে গাজীপুরের এই বিআরটি চালু করার ব্যাপারে নীতি-নির্ধারকদের এত অনীহা কেন, সেই প্রশ্নের প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করতে হবে। এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পটি সচল না করার পেছনে বিশেষ কোনো কায়েমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর কলকাঠি রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ ও অনিয়মের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা কিংবা ব্যক্তিমালিকানাধীন গণপরিবহন ও লক্কড়ঝক্কড় অকার্যকর বাস ব্যবসার কায়েমি স্বার্থ রক্ষাকারীরা বিআরটি চালুর পথে কোনো অদৃশ্য বাধা তৈরি করছে কি না, সেটিও স্বাধীন তদন্তের দাবি রাখে।

সংবাদ সম্মেলনে বিআরটি করিডোরটি দ্রুত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করতে ৭ দফা সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করা হয়। উত্থাপিত মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— বিআরটি চালুর সুনির্দিষ্ট তারিখসহ কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ, নির্মিত কোটি কোটি টাকার অবকাঠামোর শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অবশিষ্টাংশ কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করা।

এ ছাড়া কোনো কারণে প্রকল্প বাতিল, নির্মিত উড়ালপথ ও স্টেশন ভেঙে ফেলা কিংবা মূল পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আনার অপচেষ্টা করা হলে তার আগে একটি নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও বিশেষজ্ঞভিত্তিক কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবহন মূল্যায়ন প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানানো হয়। দেশের বিদ্যমান রেলপথ, মেট্রোরেল, আঞ্চলিক বাসসহ অন্যান্য ট্রানজিট ব্যবস্থার সাথে সমন্বয় করে একটি বহুমাত্রিক সমন্বিত পরিবহন অবকাঠামো গড়ে তোলার পরামর্শও দেওয়া হয়।

প্রকল্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গাজীপুরের অধিবাসী, পরিবহন বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সুস্পষ্ট মতামত নেওয়ার দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘসূত্রতা ও কোটি কোটি টাকার আর্থিক অপচয়ের জন্য দায়ীদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনি শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।

একই সাথে বিআরটি করিডোরের বিকল্প রুট হিসেবে ঢাকা বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ), ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশন কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদিত প্রস্তাবিত সালনা-উত্তরা-দৌড় এক্সপ্রেসওয়েটি দ্রুত নির্মাণের জোরালো দাবি জানান বক্তারা।

আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো. আফজাল হোসেন কায়সার, ‘গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়ন’ সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী মো. শামসুল হক, পুবাইল আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল লতিফ, গাজীপুর মেট্রো বালিকা কলেজের সভাপতি অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি গাজীপুর মহানগর শাখার সভাপতি মো. ফরহাদ হোসাইন এবং গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়ন সংগঠনের অন্যতম সদস্য মো. আশরাফুল আলমসহ স্থানীয় বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

জনপ্রিয়

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে দুই বাড়িতে অভিযান, ১৯৪ বস্তা সার জব্দ

বিআরটি প্রকল্পের ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ, দ্রুত চালুর দাবি গাজীপুরবাসীর

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৩:০৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

চলতি গাজীপুর-এয়ারপোর্ট বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের সামগ্রিক ভৌত কাজের প্রায় ৯৭ শতাংশ ইতোমধ্যেই সফলভাবে সমাপ্ত হলেও রহস্যজনক কারণে তা জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে না। দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর ধরে চাতক পাখির মতো পথ চেয়ে থেকেও আধুনিক ও মসৃণ গণপরিবহন সেবা থেকে বঞ্চিত থাকায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ‘গাজীপুরের সচেতন নাগরিক সমাজ’। বহু কোটি টাকার এই বৃহৎ মেগা প্রকল্পের নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলা কিংবা পুরো প্রকল্পটি পরিত্যক্ত করার মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের বদলে কালবিলম্ব না করে তা অবিলম্বে চালুর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ। একই সাথে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার মূল কারণ নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে এসব গণদাবি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে মূল লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিশিষ্ট অধ্যাপক ড. মো. খসরু মিয়া।

অধ্যাপক খসরু মিয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গাজীপুর হলো বাংলাদেশের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র, শিল্পনগরী ও অত্যন্ত জনঘনত্বপূর্ণ এলাকা। রাজধানী ঢাকার একদম সন্নিকটে অবস্থান হওয়া সত্ত্বেও কেবল দুর্বল যোগাযোগ অবকাঠামো, দীর্ঘ যাত্রাপথের ধীরগতি, তীব্র ও নিরবচ্ছিন্ন যানজট এবং অকার্যকর বাস পরিষেবার কারণে এই শিল্প অঞ্চলের অফুরন্ত সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিদিন হাজার হাজার চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ ঢাকা ও গাজীপুরের মধ্যে যাতায়াত করতে গিয়ে মহাসড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থবির হয়ে যানজটে আটকে থাকেন। এর ফলে প্রতিদিন বিপুল কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, কলকারখানার উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে এবং পণ্য পরিবহন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। সার্বিকভাবে এই রুটিন ভোগান্তি আঞ্চলিক অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নকে স্থবির করে দিচ্ছে।

দীর্ঘদিনের এই মারাত্মক জনভোগান্তি নিরসনে আধুনিক বিআরটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল উল্লেখ করে ডুয়েটের এই প্রবীণ অধ্যাপক বলেন, দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পার হয়ে গেলেও গাজীপুরবাসী কাঙ্ক্ষিত বিশ্বমানের গণপরিবহন সেবা পায়নি। তাই এই শিল্প অঞ্চলের মানুষের জন্য দ্রুতগামী, শতভাগ নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহনব্যবস্থা চালু করা এখন আর বিলাসের বিষয় নয়, বরং সময়ের অতি জরুরি দাবি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিআরটি করিডোরটি পুরোদমে চালু হলে গাজীপুর অঞ্চলজুড়ে আধুনিক আবাসন শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের ব্যাপক ইতিবাচক সম্প্রসারণ ঘটবে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মাত্র ১৫-২০ মিনিটের দূরত্বের কারণে এই অঞ্চলে বিশ্বমানের পাঁচ তারকা হোটেল, আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল এবং নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিপুল সুযোগ তৈরি হবে। এতে করে রাজধানী ঢাকার ওপর বিদ্যমান বিপুল জনসংখ্যা ও যানবাহনের চাপ একধাক্কায় অনেক কমে আসবে, যা স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে অভাবনীয় প্রভাব ফেলবে।

প্রকল্পের প্রায় ৯৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর এর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই পরিবহন বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন বা বাস পরিচালনায় যদি কোনো কারিগরি, পরিচালনাগত বা ব্যবস্থাপনাগত জটিলতা থেকে থাকে, তবে তা মেধা দিয়ে চিহ্নিত করে দ্রত সমাধান করতে হবে। পরিচালন পদ্ধতির মডেলে গলদ থাকলে তা সংশোধন করা সম্ভব এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কোনো ত্রুটি থাকলে কার্যকর সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে তার নিরসন করা যায়।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ঢাকার মেট্রো রেল সচল রাখতে ও পরিচালনায় সরকার যদি প্রতি বছর প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে প্রস্তুত থাকতে পারে, তবে গাজীপুরের এই বিআরটি চালু করার ব্যাপারে নীতি-নির্ধারকদের এত অনীহা কেন, সেই প্রশ্নের প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করতে হবে। এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পটি সচল না করার পেছনে বিশেষ কোনো কায়েমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর কলকাঠি রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ ও অনিয়মের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা কিংবা ব্যক্তিমালিকানাধীন গণপরিবহন ও লক্কড়ঝক্কড় অকার্যকর বাস ব্যবসার কায়েমি স্বার্থ রক্ষাকারীরা বিআরটি চালুর পথে কোনো অদৃশ্য বাধা তৈরি করছে কি না, সেটিও স্বাধীন তদন্তের দাবি রাখে।

সংবাদ সম্মেলনে বিআরটি করিডোরটি দ্রুত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করতে ৭ দফা সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করা হয়। উত্থাপিত মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— বিআরটি চালুর সুনির্দিষ্ট তারিখসহ কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ, নির্মিত কোটি কোটি টাকার অবকাঠামোর শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অবশিষ্টাংশ কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করা।

এ ছাড়া কোনো কারণে প্রকল্প বাতিল, নির্মিত উড়ালপথ ও স্টেশন ভেঙে ফেলা কিংবা মূল পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আনার অপচেষ্টা করা হলে তার আগে একটি নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও বিশেষজ্ঞভিত্তিক কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবহন মূল্যায়ন প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানানো হয়। দেশের বিদ্যমান রেলপথ, মেট্রোরেল, আঞ্চলিক বাসসহ অন্যান্য ট্রানজিট ব্যবস্থার সাথে সমন্বয় করে একটি বহুমাত্রিক সমন্বিত পরিবহন অবকাঠামো গড়ে তোলার পরামর্শও দেওয়া হয়।

প্রকল্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গাজীপুরের অধিবাসী, পরিবহন বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সুস্পষ্ট মতামত নেওয়ার দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘসূত্রতা ও কোটি কোটি টাকার আর্থিক অপচয়ের জন্য দায়ীদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনি শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।

একই সাথে বিআরটি করিডোরের বিকল্প রুট হিসেবে ঢাকা বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ), ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশন কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদিত প্রস্তাবিত সালনা-উত্তরা-দৌড় এক্সপ্রেসওয়েটি দ্রুত নির্মাণের জোরালো দাবি জানান বক্তারা।

আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো. আফজাল হোসেন কায়সার, ‘গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়ন’ সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী মো. শামসুল হক, পুবাইল আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল লতিফ, গাজীপুর মেট্রো বালিকা কলেজের সভাপতি অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি গাজীপুর মহানগর শাখার সভাপতি মো. ফরহাদ হোসাইন এবং গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়ন সংগঠনের অন্যতম সদস্য মো. আশরাফুল আলমসহ স্থানীয় বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।