Dhaka ০১:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ ও সংরক্ষিত আসনের নবনির্বাচিত ২ সংসদ সদস্যের শপথগ্রহণ আজ

মিরপুরে পোশাকশ্রমিক আন্দোলনে রাজনৈতিক চক্রান্ত ও অরাজকতার চেষ্টা: ডিএনসিসি প্রশাসক

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:১৭:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় বকেয়া ও ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নেমেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেখানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পুলিশের দফায় দফায় ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে সড়ক অবরোধ করে রাখা বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে পুলিশ।

এদিকে উদ্ভূত চলমান পরিস্থিতি মূল্যায়নে ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, শ্রমিকদের এই অসন্তোষ ও আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একটি বিশেষ মহল ও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল অরাজকতা ও চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মিরপুরের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা তুলে ধরেন ডিএনসিসি প্রশাসক। পরিদর্শনকালে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে প্রশ্ন তুলে বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও বেতন-ভাতার এই সাধারণ আন্দোলনে পতিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সদস্যরা কেন এবং কোন উদ্দেশ্যে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে?

প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান স্পষ্টভাবে জানান, আন্দোলনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যারা এই অপকর্ম ও নাশকতায় লিপ্ত রয়েছে, তাদের ইতিমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এমনকি অরাজকতাকারীদের মধ্যে অনেকেই ওই বিশেষ রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে থাকা নেতা। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুতই এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তিনি দৃঢ় ভাষায় আরও হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “শ্রমিকদের নামে কোনো ধরনের রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করতে দেওয়া হবে না। দেশে কৃত্রিমভাবে একটি অস্থিতিশীল ও সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে অপশক্তি বা আপাকে (শেখ হাসিনা) দেশে ফিরিয়ে আনার চক্রান্ত করা হবে, দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হবে—তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। এদের প্রত্যেককে ধরে আইনের আওতায় আনা হবে এবং কোনো অবস্থাতেই কাউকে অরাজকতা করতে দেওয়া হবে না।”

অন্যদিকে আজ মঙ্গলবার সকালের দিকে মিরপুর-১১ নম্বর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মোড়ে অবস্থানরত বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্দোলনস্থলে সকাল থেকে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার পোশাকশ্রমিক একত্র হয়ে সড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁদের প্রধান সড়ক থেকে নিরাপদে সরিয়ে দিতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ সদস্যরা প্রশাসনিক অভিযান শুরু করলেই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।

জনপ্রিয়

প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ বন্ধ থাকবে ২৪ ঘণ্টা, ডেসকোর জরুরি নির্দেশনা

মিরপুরে পোশাকশ্রমিক আন্দোলনে রাজনৈতিক চক্রান্ত ও অরাজকতার চেষ্টা: ডিএনসিসি প্রশাসক

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:১৭:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় বকেয়া ও ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নেমেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেখানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পুলিশের দফায় দফায় ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে সড়ক অবরোধ করে রাখা বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে পুলিশ।

এদিকে উদ্ভূত চলমান পরিস্থিতি মূল্যায়নে ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, শ্রমিকদের এই অসন্তোষ ও আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একটি বিশেষ মহল ও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল অরাজকতা ও চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মিরপুরের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা তুলে ধরেন ডিএনসিসি প্রশাসক। পরিদর্শনকালে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে প্রশ্ন তুলে বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও বেতন-ভাতার এই সাধারণ আন্দোলনে পতিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সদস্যরা কেন এবং কোন উদ্দেশ্যে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে?

প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান স্পষ্টভাবে জানান, আন্দোলনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যারা এই অপকর্ম ও নাশকতায় লিপ্ত রয়েছে, তাদের ইতিমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এমনকি অরাজকতাকারীদের মধ্যে অনেকেই ওই বিশেষ রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে থাকা নেতা। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুতই এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তিনি দৃঢ় ভাষায় আরও হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “শ্রমিকদের নামে কোনো ধরনের রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করতে দেওয়া হবে না। দেশে কৃত্রিমভাবে একটি অস্থিতিশীল ও সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে অপশক্তি বা আপাকে (শেখ হাসিনা) দেশে ফিরিয়ে আনার চক্রান্ত করা হবে, দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হবে—তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। এদের প্রত্যেককে ধরে আইনের আওতায় আনা হবে এবং কোনো অবস্থাতেই কাউকে অরাজকতা করতে দেওয়া হবে না।”

অন্যদিকে আজ মঙ্গলবার সকালের দিকে মিরপুর-১১ নম্বর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মোড়ে অবস্থানরত বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্দোলনস্থলে সকাল থেকে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার পোশাকশ্রমিক একত্র হয়ে সড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁদের প্রধান সড়ক থেকে নিরাপদে সরিয়ে দিতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ সদস্যরা প্রশাসনিক অভিযান শুরু করলেই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।