জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন সমীকরণ ও হিসাব-নিকাশ শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকার বিভিন্ন আসনে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাফল্য এবং শক্ত অবস্থান বিএনপির অভ্যন্তরীণ প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাংগঠনিক শক্তির কথা মাথায় রেখে বিএনপি এখন ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, স্থানীয় ভোটব্যাংক এবং সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতাকে প্রার্থীর মূল মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করছে।
প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর তৎপরতা: ইতিমধ্যেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে নিজেদের মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না দিলেও অভ্যন্তরীণভাবে প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে, যেখানে ঢাকা উত্তরে মহানগর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে ঢাবির সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমের নাম শোনা যাচ্ছে। এই রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপিও তাদের রণকৌশল সাজাচ্ছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) সম্ভাব্য প্রার্থীরা: উত্তরের সম্ভাব্য মেয়র পদের দৌড়ে প্রধানত তিনজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। এরা হলেন—দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ২০২০ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া তাবিথ আউয়াল, বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন (যিনি প্রশাসক হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন) এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ কাইয়ুম। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও এই তিন নেতার অনুসারীদের মধ্যে নানা সমীকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) সম্ভাব্য প্রার্থীরা: দক্ষিণের রাজনীতিতে মূলত তিনটি নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। তারা হলেন—মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন (যিনি গত নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী ছিলেন), বর্তমান প্রশাসক ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতা আব্দুস সালাম এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। তরুণ নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা কিংবা দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস—এই তিন নেতার অনুসারীরা নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে মাঠপর্যায়ে বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কেন্দ্রীয় অবস্থান: যদিও দলীয় সূত্রে জানা গেছে যে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার আগে চূড়ান্ত কোনো নাম ঘোষণা করা হচ্ছে না, তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ইঙ্গিত দিয়েছেন যে দলের হাইকমান্ডের আলোচনাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা—ঢাকা শহরের প্রতিটি অলিগলি ও জনমানুষের সমস্যা সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখেন এমন একজন পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব নেতাই যেন দল থেকে মনোনয়ন পান।






















