Dhaka ১০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ কমবে: তিতুমীর

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৫:০৩:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২ বার দেখা হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির সামরিক সংকট এবং বিগত আমল থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া লাগামহীন মূল্যস্ফীতির কারণে দেশের খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ তীব্র অর্থনৈতিক চাপে পড়লেও সরকারের প্রবর্তিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’ এবং অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি মানুষের দুর্ভোগ প্রশমন ও দারিদ্র্য বিমোচনে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে দৃঢ় অভিমত প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এসব কল্যাণমুখী পদক্ষেপের মাধ্যমে ইতোমধ্যে দারিদ্র্যসীমার নিচে তলিয়ে যাওয়া জনগোষ্ঠীকে বের করে আনার পাশাপাশি নতুন করে কোনো নাগরিকের দরিদ্র হয়ে পড়ার ঝুঁকি প্রতিরোধ করা যাবে।

আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আয়োজিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বাৎসরিক সভার ফাঁকে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় এসব কথা নিশ্চিত করেন প্রধানমত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

এর আগে সকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সুনির্দিষ্ট নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলটি বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, আন্তর্জাতিক ব্যাংক ‘স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড’ এবং ‘ব্যাংক অব আমেরিকা’-র নীতি নির্ধারক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেয়।

আলোচনায় ড. তিতুমীর উল্লেখ করেন, দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের বহুমুখী সংঘাতের কারণে খেটে খাওয়া মানুষের দৈনন্দিন খরচ অনেকটা বেড়ে গেছে। এছাড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক ঢেউ সার্বিক অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে পড়ার গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার সব দিক বিবেচনা করে সাধারণ জনগণের ওপর যেন বাড়তি আর্থিক চাপ না পড়ে, সে উদ্দেশ্যে জ্বালানির দর সমন্বয়ের সময় সর্বোচ্চ সংযম বজায় রাখছে।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক জরিপ ও তথ্যের বরাতে তিনি জানান যে, অতীত সরকারের আমলের অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতির দরুন দেশের প্রায় ৮০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে পতিত হয়েছেন। এহেন নাজুক পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড উদ্যোগ দুটি অভাবনীয় ভূমিকা রাখবে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সম্পূর্ণ একমত প্রকাশ করেছে।

অতীতে সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বড় দুর্বলতা হিসেবে ভুয়া ও অসত্য উপকারভোগী নির্বাচনকে চিহ্নিত করে ড. তিতুমীর বলেন, আগে যাদের সহায়তার জরুরি প্রয়োজন ছিল তাদের বাদ দিয়ে অপাত্রে সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। তবে এই অনিয়ম রোধে বর্তমান বিএনপি সরকার সার্বিক ডিজিটাল জনপরিকাঠামো প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে মূল ভুক্তভোগীদের কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে। নিরপেক্ষ গবেষণা সংস্থার সমীক্ষা অনুযায়ী, এই ফ্যামিলি কার্ডের সফল বাস্তবায়নে দেশের দারিদ্র্যের হার প্রায় ৫ শতাংশ কমে আসবে।

কেবল কঠোর মুদ্রানীতি প্রয়োগ করে মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি আরও যুক্ত করেন যে, কর ফাঁকি, কর জালিয়াতি ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি বন্ধ করায় রাজস্ব খাতে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। বিগত অর্থবছরে যেখানে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৩ শতাংশ, সেখানে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে রাজস্ব আদায়ে ১২ থেকে ১৩ শতাংশের উল্লম্ফন দেখা গেছে।

এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, অতীতে ব্যাংক লুটপাটের দরুন প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়েছে দেশকে। এই নজিরবিহীন আর্থিক সংকট মোকাবিলায় বর্তমান সরকার ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-সহ নানা ব্যাংকে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে এনেছে। এর ফলে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে সাধারণ আমানতকারীরা নির্বিঘ্নে টাকা তুলতে ও জমা রাখতে পারছেন এবং ব্যাংক সুদের হার স্বাভাবিক হয়ে আসছে।

উল্লেখ্য যে, থাইল্যান্ডের কুইন সিরিকিত জাতীয় সম্মেলন কেন্দ্রে আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আইএমএফের ২০২৬ সালের বিশ্ব বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী, ব্যাংকের গভর্নর ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সম্মেলন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বিদেশি বিনিয়োগ আনোয়নের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ কমবে: তিতুমীর

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৫:০৩:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির সামরিক সংকট এবং বিগত আমল থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া লাগামহীন মূল্যস্ফীতির কারণে দেশের খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ তীব্র অর্থনৈতিক চাপে পড়লেও সরকারের প্রবর্তিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’ এবং অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি মানুষের দুর্ভোগ প্রশমন ও দারিদ্র্য বিমোচনে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে দৃঢ় অভিমত প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এসব কল্যাণমুখী পদক্ষেপের মাধ্যমে ইতোমধ্যে দারিদ্র্যসীমার নিচে তলিয়ে যাওয়া জনগোষ্ঠীকে বের করে আনার পাশাপাশি নতুন করে কোনো নাগরিকের দরিদ্র হয়ে পড়ার ঝুঁকি প্রতিরোধ করা যাবে।

আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আয়োজিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বাৎসরিক সভার ফাঁকে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় এসব কথা নিশ্চিত করেন প্রধানমত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

এর আগে সকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সুনির্দিষ্ট নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলটি বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, আন্তর্জাতিক ব্যাংক ‘স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড’ এবং ‘ব্যাংক অব আমেরিকা’-র নীতি নির্ধারক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেয়।

আলোচনায় ড. তিতুমীর উল্লেখ করেন, দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের বহুমুখী সংঘাতের কারণে খেটে খাওয়া মানুষের দৈনন্দিন খরচ অনেকটা বেড়ে গেছে। এছাড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক ঢেউ সার্বিক অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে পড়ার গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার সব দিক বিবেচনা করে সাধারণ জনগণের ওপর যেন বাড়তি আর্থিক চাপ না পড়ে, সে উদ্দেশ্যে জ্বালানির দর সমন্বয়ের সময় সর্বোচ্চ সংযম বজায় রাখছে।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক জরিপ ও তথ্যের বরাতে তিনি জানান যে, অতীত সরকারের আমলের অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতির দরুন দেশের প্রায় ৮০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে পতিত হয়েছেন। এহেন নাজুক পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড উদ্যোগ দুটি অভাবনীয় ভূমিকা রাখবে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সম্পূর্ণ একমত প্রকাশ করেছে।

অতীতে সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বড় দুর্বলতা হিসেবে ভুয়া ও অসত্য উপকারভোগী নির্বাচনকে চিহ্নিত করে ড. তিতুমীর বলেন, আগে যাদের সহায়তার জরুরি প্রয়োজন ছিল তাদের বাদ দিয়ে অপাত্রে সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। তবে এই অনিয়ম রোধে বর্তমান বিএনপি সরকার সার্বিক ডিজিটাল জনপরিকাঠামো প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে মূল ভুক্তভোগীদের কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে। নিরপেক্ষ গবেষণা সংস্থার সমীক্ষা অনুযায়ী, এই ফ্যামিলি কার্ডের সফল বাস্তবায়নে দেশের দারিদ্র্যের হার প্রায় ৫ শতাংশ কমে আসবে।

কেবল কঠোর মুদ্রানীতি প্রয়োগ করে মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি আরও যুক্ত করেন যে, কর ফাঁকি, কর জালিয়াতি ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতি বন্ধ করায় রাজস্ব খাতে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। বিগত অর্থবছরে যেখানে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৩ শতাংশ, সেখানে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে রাজস্ব আদায়ে ১২ থেকে ১৩ শতাংশের উল্লম্ফন দেখা গেছে।

এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, অতীতে ব্যাংক লুটপাটের দরুন প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়েছে দেশকে। এই নজিরবিহীন আর্থিক সংকট মোকাবিলায় বর্তমান সরকার ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-সহ নানা ব্যাংকে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে এনেছে। এর ফলে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে সাধারণ আমানতকারীরা নির্বিঘ্নে টাকা তুলতে ও জমা রাখতে পারছেন এবং ব্যাংক সুদের হার স্বাভাবিক হয়ে আসছে।

উল্লেখ্য যে, থাইল্যান্ডের কুইন সিরিকিত জাতীয় সম্মেলন কেন্দ্রে আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আইএমএফের ২০২৬ সালের বিশ্ব বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী, ব্যাংকের গভর্নর ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সম্মেলন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বিদেশি বিনিয়োগ আনোয়নের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।