কুমিল্লা জেলাজুড়ে কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সের অপরাধীদের দমনে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে নতুন করে আরও ৫১৯ জনকে নিজেদের আয়ত্তে নিয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত পুরো জেলার অন্তর্গত ১৮টি থানা এলাকায় একযোগে এই সমন্বিত সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) পদে কর্মরত মো. লুৎফর রহমান এই অভিযানের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসূত্রে জানা গেছে, যেসব নির্দিষ্ট চত্বর বা স্থানে বখাটে তরুণদের অহেতুক আড্ডা ও উৎপাত বেশি দেখা যায়, সেসব চিহ্নিত স্থান ও অতি অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো লক্ষ্য করে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান সফল করতে জেলা পুলিশের নিয়মিত বিভিন্ন আঞ্চলিক ইউনিটের পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক স্পেশাল টিম সক্রিয়ভাবে অংশে নেয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান সাংবাদিকদের জানান, আটক করা সকল তরুণের অতীত ইতিহাস ও নানাবিধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তে অপরাধের প্রাথমিক বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া গেলেই কেবল তাঁদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কোমলমতি কিশোররা যেন কোনোভাবেই অনৈতিক ও অপরাধমূলক কাজে না জড়িয়ে পড়ে, সে উদ্দেশ্যেই নিয়মিতভাবে এই প্রক্রিয়ার অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। তবে এই অভিযানকালে কোনো নিরীহ কিংবা নির্দোষ তরুণ যেন অযথা পুলিশি হয়রানির কবলে না পড়ে, সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, এর আগে পরিচালিত পরপর সাতটি পৃথক অভিযানে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকা সহ পুরো জেলার নানা প্রান্ত থেকে সর্বমোট ২ হাজার ৯৫৩ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছিল। নতুন করে পরিচালিত সর্বশেষ অভিযানে আরও ৫১৯ জন যুক্ত হওয়ায় সর্বমোট আটকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩ হাজার ৪৭২ জনে। পরবর্তীতে তাঁদের মধ্যে হতে নানা সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অন্তত এক হাজার জনকে বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের নামকরা শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের নিথর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মর্মান্তিক ওই হত্যাকাণ্ডের সাথে স্থানীয় বখাটে কিশোর গ্যাং সদস্যদের জড়িত থাকার আলামত ও নাম উঠে আসার পর থেকেই পুরো জেলাজুড়ে পুলিশি তৎপরতা ও অভিযান ব্যাপক মাত্রায় জোরদার করা হয়।

























