Dhaka ১০:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

সৌদির বৃহত্তম তেল কোম্পানি আরামকোর সদর দপ্তরে হামলা

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ২০ বার দেখা হয়েছে

সৌদি আরবের সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘সৌদি আরামকো’-এর প্রধান কার্যালয় ও প্রশাসনিক সদর দপ্তর লক্ষ্য করে এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান দপ্তর ভবনের উপরের তিনটি তলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি কিংবা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয়।

বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) সকালে প্রকাশিত এক বিশেষ সরকারি বিবৃতিতে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গভীর রাতে হামলা ঘটার পরপরই নিরাপত্তাবাহিনী ও জরুরি উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া আরামকোর এক গোপন সূত্রের তথ্যানুযায়ী, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে অবস্থিত আরামকোর প্রধান কার্যালয় কমপ্লেক্সে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে। হামলার ফলে কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি প্রশাসনিক অফিস ভবনের উপরের তিনটি তলার অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধাহরানের এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ কমপ্লেক্স থেকেই সৌদি আরামকোর প্রধান পরিচালনাকেন্দ্র বা কন্ট্রোল রুম পরিচালিত হয়, যা দেশের সব স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক বিশাল তেলক্ষেত্র, পাইপলাইন, আন্তর্জাতিক শোধনাগার এবং তেল রপ্তানি টার্মিনালের কার্যক্রম তদারকি করে থাকে।

প্রতিবেশ ইয়েমেনে নতুন করে চরম রূপ নেওয়া গৃহযুদ্ধে সৌদি জোট ইয়েমেন সরকারকে সরাসরি সামরিক সমর্থন প্রদান করছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে গত এক সপ্তাহ ধরে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদি আরবের একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। ইতিপূর্বে দেশটির রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত চার দফায় হামলা চালানো হয়, যার মধ্যে গত শনিবারের (১০ অক্টোবর) এক হামলায় ১৩ জন নিহত হন—যা বিগত এক দশকের মধ্যে সৌদিতে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

অন্যদিকে রয়টার্সের একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ধাহরানের আরামকো কমপ্লেক্সের আশেপাশের বিস্তৃত এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দাবি করেছে, ধাহরানের আকাশে একটি ধেয়ে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা সফলভাবে ইন্টারসেপ্ট বা প্রতিহত করে ধ্বংস করেছে এবং সেটির জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ স্থানীয় জনবহুল আবাসিক এলাকায় গিয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে রাজধানী রিয়াদ এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ধেয়ে আসা বেশ কয়েকটি আক্রমণাত্মক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে জোট বাহিনী।

সংবাদসংস্থা সূত্র নিশ্চিত করেছে, রাজধানী রিয়াদের আকাশে দুটি হুথি ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্ট করার পর সেগুলোর খণ্ডিত অংশ শহরের ১৫টি আবাসিক বাড়ির ওপর গিয়ে পড়ে। বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্যমতে, এই ঘটনায় দুই নারী, এক পুরুষ এবং এক শিশুসহ মোট চারজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।

উলেখ্য, এর আগে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের টানা বিমান হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে “কঠোর ও বেদনাদায়ক” পাল্টা সামরিক প্রতিশোধের সরাসরি হুমকি দিয়েছিল হুথি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র সামরিক কর্মকর্তা ইয়াহিয়া সারি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, সৌদির ধাহরানে অবস্থিত আরামকোর সদর দপ্তর ও রিয়াদের একটি প্রধান তেল শোধনাগার তাদের প্রাথমিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে। যার পরই এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটলো।

মধ্যপ্রাচ্যে এই সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির জেরে সৌদি আরবের তেল শিল্পে কর্মরত স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মীদের সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ সব স্থাপনা ও অবকাঠামো থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করার কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

সৌদির বৃহত্তম তেল কোম্পানি আরামকোর সদর দপ্তরে হামলা

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘সৌদি আরামকো’-এর প্রধান কার্যালয় ও প্রশাসনিক সদর দপ্তর লক্ষ্য করে এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান দপ্তর ভবনের উপরের তিনটি তলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি কিংবা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয়।

বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) সকালে প্রকাশিত এক বিশেষ সরকারি বিবৃতিতে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গভীর রাতে হামলা ঘটার পরপরই নিরাপত্তাবাহিনী ও জরুরি উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া আরামকোর এক গোপন সূত্রের তথ্যানুযায়ী, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে অবস্থিত আরামকোর প্রধান কার্যালয় কমপ্লেক্সে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে। হামলার ফলে কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি প্রশাসনিক অফিস ভবনের উপরের তিনটি তলার অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধাহরানের এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ কমপ্লেক্স থেকেই সৌদি আরামকোর প্রধান পরিচালনাকেন্দ্র বা কন্ট্রোল রুম পরিচালিত হয়, যা দেশের সব স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক বিশাল তেলক্ষেত্র, পাইপলাইন, আন্তর্জাতিক শোধনাগার এবং তেল রপ্তানি টার্মিনালের কার্যক্রম তদারকি করে থাকে।

প্রতিবেশ ইয়েমেনে নতুন করে চরম রূপ নেওয়া গৃহযুদ্ধে সৌদি জোট ইয়েমেন সরকারকে সরাসরি সামরিক সমর্থন প্রদান করছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে গত এক সপ্তাহ ধরে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদি আরবের একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। ইতিপূর্বে দেশটির রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত চার দফায় হামলা চালানো হয়, যার মধ্যে গত শনিবারের (১০ অক্টোবর) এক হামলায় ১৩ জন নিহত হন—যা বিগত এক দশকের মধ্যে সৌদিতে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

অন্যদিকে রয়টার্সের একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ধাহরানের আরামকো কমপ্লেক্সের আশেপাশের বিস্তৃত এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দাবি করেছে, ধাহরানের আকাশে একটি ধেয়ে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা সফলভাবে ইন্টারসেপ্ট বা প্রতিহত করে ধ্বংস করেছে এবং সেটির জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ স্থানীয় জনবহুল আবাসিক এলাকায় গিয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে রাজধানী রিয়াদ এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ধেয়ে আসা বেশ কয়েকটি আক্রমণাত্মক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে জোট বাহিনী।

সংবাদসংস্থা সূত্র নিশ্চিত করেছে, রাজধানী রিয়াদের আকাশে দুটি হুথি ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্ট করার পর সেগুলোর খণ্ডিত অংশ শহরের ১৫টি আবাসিক বাড়ির ওপর গিয়ে পড়ে। বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্যমতে, এই ঘটনায় দুই নারী, এক পুরুষ এবং এক শিশুসহ মোট চারজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।

উলেখ্য, এর আগে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের টানা বিমান হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে “কঠোর ও বেদনাদায়ক” পাল্টা সামরিক প্রতিশোধের সরাসরি হুমকি দিয়েছিল হুথি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র সামরিক কর্মকর্তা ইয়াহিয়া সারি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, সৌদির ধাহরানে অবস্থিত আরামকোর সদর দপ্তর ও রিয়াদের একটি প্রধান তেল শোধনাগার তাদের প্রাথমিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে। যার পরই এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটলো।

মধ্যপ্রাচ্যে এই সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির জেরে সৌদি আরবের তেল শিল্পে কর্মরত স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মীদের সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ সব স্থাপনা ও অবকাঠামো থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করার কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে।