Dhaka ০৫:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

আইনজীবীরা সমাজের ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ার’: আইনমন্ত্রী

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৪৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৪ বার দেখা হয়েছে

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান পরামর্শ দিয়েছেন যে, মক্কেলের আর্থিক সক্ষমতা পরখ করে প্রয়োজনে সহানুভূতিশীল ও মানবিক মানসিকতা নিয়ে দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। শুধু বৈষয়িক লাভ বা অর্থ উপার্জনের পেছনে না ছুটে, পেশাজীবনে সাধারণ মানুষের কল্যাণ করার সুযোগকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) অনুষ্ঠিত ‘এনএসইউ ল ফেস্ট সিজন-৩’-এর সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও যোগ করেন, আইনি সেবা পেশাটি কেবল মুনাফা অর্জনের মাধ্যম নয়; বরং প্রত্যেক আইনজীবীকেই নিজের কর্মদায়িত্ব পালনের পাশাপাশি হৃদয়বান ও মানবিক হতে হবে। যখন কোনো সাহায্যপ্রার্থী ব্যক্তি সংকটে পড়ে আইনজীবীর দ্বারস্থ হন, তখন তিনি তার ওপর পূর্ণ ভরসা ও আস্থা স্থাপন করেন। সুতরাং সেই আস্থার সঠিক মূল্যায়ন করা ও সম্মান রক্ষা করা একজন আইনজীবীর প্রাথমিক নৈতিক কর্তব্য।

মন্ত্রীর ভাষ্যমতে, একজন আইনজীবী যুগপৎভাবে একদিকে যেমন তার মক্কেলের নিকট দায়বদ্ধ থাকেন, অন্যদিকে তিনি আদালতের একজন সম্মানিত কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বিচারালয়কে সঠিক ও ন্যায়সংগত সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সহযোগিতা করা এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় অবদান রাখা আইনজীবীদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অতএব, মক্কেলের ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের পাশাপাশি বিচারালয়ের প্রতিও তাদের পূর্ণ সচেতন ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখতে হবে।

আসাদুজ্জামান উল্লেখ করেন যে, একজন দক্ষ ও সফল আইনজীবী হিসেবে গড়ে ওঠার নেপথ্যে গভীর অধ্যয়ন ও নিরলস শ্রমের কোনো বিকল্প বা সংক্ষিপ্ত পথ নেই। এই পেশায় চূড়ান্ত সাফল্য পেতে হলে সততা, কাজের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব এবং মানবিক অনুভূতির অপূর্ব মিশ্রণে নিজের ব্যক্তিত্বকে গঠন করতে হবে। দীর্ঘদিনের সাধনা, অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং কঠোর মেহনতের মাধ্যমেই মূলত একজন আইনজীবী নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেন।

তিনি আইনজীবীদের সমাজের ‘সামাজিক প্রকৌশলী’ বা ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে, সমাজব্যবস্থার রূপান্তর ও অগ্রযাত্রায় তাদের বিশেষ অবদান রয়েছে। প্রচলিত কোনো আইনে যদি কোনো ধরনের অসংগতি কিংবা আধুনিকায়নের প্রয়োজন দেখা যায়, তবে আইনজীবীদের দায়িত্ব হলো সেগুলো চিহ্নিত করা এবং যুগোপযোগী সংস্কারের স্বার্থে নিজেদের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরা।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিচারমঞ্চে দাঁড়ানোর সময় আইনজীবীর মুখনিঃসৃত প্রতিটি শব্দ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ওজনদার হয়। তাই আইনের সঠিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন, মামলার প্রাসঙ্গিক নথিপত্র ও তথ্য-উপাত্ত নিখুঁতভাবে তুলে ধরা এবং শক্তিশালী যুক্তিতর্কের মাধ্যমে আদালতকে বিচারকাজে সহায়তা করার মতো প্রয়োজনীয় পারদর্শিতা প্রতিটি আইনজীবীকে অবশ্যই অর্জন করতে হবে।

নতুন প্রজন্মের আইনজীবীদের দক্ষতার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, পেশাগত জীবনের সূচনা পর্বে তাদের জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবভিত্তিক অভিজ্ঞতার ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে তারা প্রকৃত পেশাদার হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন। বর্তমান সরকার এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নানামুখী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আইনের ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে মন্ত্রী আহ্বান জানান যে, প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি তারা যদি সমাজে কোনো আইনি ঘাটতি বা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা লক্ষ্য করেন, তবে নিজেদের সুচিন্তিত প্রস্তাব ও ভাবনা সরাসরি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারেন। প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলো গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করে আগামী দিনে আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা তিনি জানান।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আইনজীবীরা সমাজের ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ার’: আইনমন্ত্রী

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৪৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান পরামর্শ দিয়েছেন যে, মক্কেলের আর্থিক সক্ষমতা পরখ করে প্রয়োজনে সহানুভূতিশীল ও মানবিক মানসিকতা নিয়ে দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। শুধু বৈষয়িক লাভ বা অর্থ উপার্জনের পেছনে না ছুটে, পেশাজীবনে সাধারণ মানুষের কল্যাণ করার সুযোগকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) অনুষ্ঠিত ‘এনএসইউ ল ফেস্ট সিজন-৩’-এর সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও যোগ করেন, আইনি সেবা পেশাটি কেবল মুনাফা অর্জনের মাধ্যম নয়; বরং প্রত্যেক আইনজীবীকেই নিজের কর্মদায়িত্ব পালনের পাশাপাশি হৃদয়বান ও মানবিক হতে হবে। যখন কোনো সাহায্যপ্রার্থী ব্যক্তি সংকটে পড়ে আইনজীবীর দ্বারস্থ হন, তখন তিনি তার ওপর পূর্ণ ভরসা ও আস্থা স্থাপন করেন। সুতরাং সেই আস্থার সঠিক মূল্যায়ন করা ও সম্মান রক্ষা করা একজন আইনজীবীর প্রাথমিক নৈতিক কর্তব্য।

মন্ত্রীর ভাষ্যমতে, একজন আইনজীবী যুগপৎভাবে একদিকে যেমন তার মক্কেলের নিকট দায়বদ্ধ থাকেন, অন্যদিকে তিনি আদালতের একজন সম্মানিত কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বিচারালয়কে সঠিক ও ন্যায়সংগত সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সহযোগিতা করা এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় অবদান রাখা আইনজীবীদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অতএব, মক্কেলের ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের পাশাপাশি বিচারালয়ের প্রতিও তাদের পূর্ণ সচেতন ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখতে হবে।

আসাদুজ্জামান উল্লেখ করেন যে, একজন দক্ষ ও সফল আইনজীবী হিসেবে গড়ে ওঠার নেপথ্যে গভীর অধ্যয়ন ও নিরলস শ্রমের কোনো বিকল্প বা সংক্ষিপ্ত পথ নেই। এই পেশায় চূড়ান্ত সাফল্য পেতে হলে সততা, কাজের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব এবং মানবিক অনুভূতির অপূর্ব মিশ্রণে নিজের ব্যক্তিত্বকে গঠন করতে হবে। দীর্ঘদিনের সাধনা, অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং কঠোর মেহনতের মাধ্যমেই মূলত একজন আইনজীবী নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেন।

তিনি আইনজীবীদের সমাজের ‘সামাজিক প্রকৌশলী’ বা ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে, সমাজব্যবস্থার রূপান্তর ও অগ্রযাত্রায় তাদের বিশেষ অবদান রয়েছে। প্রচলিত কোনো আইনে যদি কোনো ধরনের অসংগতি কিংবা আধুনিকায়নের প্রয়োজন দেখা যায়, তবে আইনজীবীদের দায়িত্ব হলো সেগুলো চিহ্নিত করা এবং যুগোপযোগী সংস্কারের স্বার্থে নিজেদের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরা।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিচারমঞ্চে দাঁড়ানোর সময় আইনজীবীর মুখনিঃসৃত প্রতিটি শব্দ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ওজনদার হয়। তাই আইনের সঠিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন, মামলার প্রাসঙ্গিক নথিপত্র ও তথ্য-উপাত্ত নিখুঁতভাবে তুলে ধরা এবং শক্তিশালী যুক্তিতর্কের মাধ্যমে আদালতকে বিচারকাজে সহায়তা করার মতো প্রয়োজনীয় পারদর্শিতা প্রতিটি আইনজীবীকে অবশ্যই অর্জন করতে হবে।

নতুন প্রজন্মের আইনজীবীদের দক্ষতার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, পেশাগত জীবনের সূচনা পর্বে তাদের জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবভিত্তিক অভিজ্ঞতার ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে তারা প্রকৃত পেশাদার হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন। বর্তমান সরকার এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নানামুখী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আইনের ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে মন্ত্রী আহ্বান জানান যে, প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি তারা যদি সমাজে কোনো আইনি ঘাটতি বা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা লক্ষ্য করেন, তবে নিজেদের সুচিন্তিত প্রস্তাব ও ভাবনা সরাসরি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারেন। প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলো গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করে আগামী দিনে আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা তিনি জানান।