স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার বিশেষ বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে আগামী জুনের মধ্যে সবকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সরকারের পক্ষ থেকে বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) সচিবালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে দেশব্যাপী গ্রাম পুলিশের আইনি ক্ষমতা বৃদ্ধি, বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পুনর্নির্ধারণসহ আসন্ন মহাসমাবেশের বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, আগামী ৭ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১১টায় চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে ঐতিহাসিক গ্রাম পুলিশ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সারা দেশ থেকে প্রায় ৫০ হাজার গ্রাম পুলিশ সদস্য এই মহাসমাবেশে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
গ্রাম পুলিশের পেশাগত ও সামাজিক মর্যাদা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রাম পুলিশ আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। তাদের দীর্ঘদিনের আইনি ক্ষমতা, সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা চাওয়া হয়েছে। ৭ নভেম্বরের মহাসমাবেশে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের না বলা কথা, চাওয়া-পাওয়া ও প্রত্যাশার বিষয়গুলো সরাসরি শোনার সুযোগ তৈরি হবে। তাদের যৌক্তিক দাবি ও প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তা বাস্তবায়নের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।’
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে সুনির্দিষ্ট অবস্থান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার সরকারি সিদ্ধান্তে সরকার এখনও সম্পূর্ণ অটল রয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক উপায়ে নির্বাচনের আরও উপযুক্ত তারিখ নির্ধারণ করে চলতি বছরের জুনের মধ্যে সব নির্বাচন সম্পন্ন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নির্বাচন আয়োজনের আর্থিক সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুচারুভাবে আয়োজনের জন্য প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট সংরক্ষণ করা হয়েছে। বর্তমান অর্থবছরের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি নির্বাচনগুলো আয়োজন করা সম্ভব না হয়, তবে এই বরাদ্দকৃত অর্থ অব্যবহৃত থেকে পরবর্তী অর্থবছরে স্থানান্তরিত হবে। তবে নির্দিষ্ট জুনের মধ্যে ভোটগ্রহণ শেষ করা যাবে কি না, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সময়সূচি জানাতে পারবে। সরকার সম্পূর্ণ সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে ইসিকে দ্রুত নির্বাচন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে।
নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার কিংবা মাঠপ্রশাসন বিন্দুমাত্র কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। সকল রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমান আইনগত অধিকার নিশ্চিত করে একটি সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় কঠোর প্রশাসনিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বর্তমান সরকার কোনো প্রকার বিতর্ক বা কলঙ্ক মাথায় নিতে বিন্দুমাত্র রাজি নয়। নির্বাচন যেন সম্পূর্ণ উৎসবমুখর, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে পারে, সে জন্য নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও logistical সহায়তা প্রদান করা হবে। নির্বাচনে সকল প্রার্থী যাতে সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পান, সেটি নিশ্চিত করাই সরকারের মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য।
এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক ডেঙ্গু পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোকপাত করে প্রতিমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বিগত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম রয়েছে।






















