বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রাপ্তির প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষকে কোনো প্রকার হয়রানি বা মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে যাওয়া থেকে মুক্ত রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে এক যুগান্তকারী ঘোষণা প্রদান করা হয়েছে। সরকারের সুবিধাভোগী কার্ড পেতে কোনো নাগরিককে কোনো দপ্তরে বা ব্যক্তির দ্বারে দ্বারে যেতে হবে না; বরং তথ্য সংগ্রহের পর সরাসরি প্রতিটি যোগ্য পরিবারের কাছে কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন।
একই সঙ্গে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রণীত সুবিধাভোগীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশের পর এতে কোনো ভুলভ্রান্তি, স্বজনপ্রীতি বা অনিয়ম থাকলে তা সংশোধনের জন্য এলাকাভিত্তিক সরাসরি গণশুনানির আয়োজন করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
গত সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের সার্বিক তথ্য সংগ্রহ ও বাস্তবায়ন কৌশল বিষয়ে আয়োজিত এক জনগুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ফারজানা শারমীন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরে জানান, সরকারিভাবে নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারীরা প্রতিটি ঘরে ঘরে সশরীরে গিয়ে পরিবারের নিকট থেকে ৫০ থেকে ৫১টি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর সংগ্রহ করবেন। গৃহপরিবারের সদস্যদের দেওয়া সেসব তথ্যাবলী আধুনিক সফটওয়্যার ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে সরাসরি ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডারে নথিভুক্ত করা হবে। কোন প্রশ্নের উত্তরে কত নম্বর বা গুরুত্ব রয়েছে, তা তথ্য সংগ্রহকারী মাঠকর্মীদের জানার কোনো প্রয়োজন থাকবে না, ফলে স্বজনপ্রীতির সুযোগ মিলবে না। মাঠকর্মীদের মূল দায়িত্ব কেবল বাড়ি বাড়ি গিয়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে সরকারি সেন্ট্রাল সিস্টেমে যুক্ত করা।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল ব্যবস্থা নিজেই নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করবে—কারা প্রকৃতপক্ষে হতদরিদ্র, দরিদ্র কিংবা নিম্নবিত্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য। তবে কোনো কারণে এই স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় তৈরি তালিকাতেও যদি প্রযুক্তিগত ভুল বা অসঙ্গতি দেখা দেয়, তা নিরসনে চূড়ান্ত তালিকা সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশের পর স্থানীয় পর্যায়ে গণশুনানির আয়োজন করা হবে। গণশুনানিতে তালিকা সবার সামনে প্রদর্শন করে কোনো কারসাজি হয়েছে কি না, তা সরাসরি যাচাই করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের পূর্ণ সুযোগ রাখা হবে।
সম্প্রতি ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অসাধু চক্র কর্তৃক সাধারণ মানুষের টিপসই বা স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও সতর্কতা প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজে এ ধরনের প্রতারণামূলক ঘটনা ঘটলে তা কঠোরভাবে প্রতিরোধে সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকে একযোগে কাজ করতে হবে। ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত একেবারে পরিষ্কার—এই বিশেষ কার্ড পেতে কাউকে কোনো দালাল, মধ্যস্বত্বভোগী বা প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে যেতে হবে না। সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্বয়ং সরকারই প্রতিটি পরিবারের ঘরে কার্ড পৌঁছে দেবে।
তথ্য সংগ্রহের সময় বা পরবর্তী পর্যায়ে যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করলে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানানোর জন্য দেশের নাগরিকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, হয়রানি রোধে অভিযোগ জানানোর জন্য অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই কার্যকর আইনি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কোনো অভিযোগ জমা পড়লে তা সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত ও যাচাই করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গুরুত্বপূর্ণ এই সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) সৈয়দ আবদাল আহমদসহ তথ্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।






















