Dhaka ০৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

নিত্যপণ্যের বাজারে দেশজুড়ে তদারকি, ৪২ জেলায় জরিমানা

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৪০:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ২২ বার দেখা হয়েছে

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের অনিয়ম, অতিরিক্ত মূল্য আদায় এবং কৃত্রিম মূল্য কারসাজি কঠোরভাবে প্রতিরোধে দেশজুড়ে বিশেষ ও সাঁড়াশি তদারকি অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

গত সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন অঞ্চলসহ দেশের ৪২টি জেলায় একযোগে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে ভোক্তা স্বার্থবিরোধী নানা অনিয়মের দায়ে ১২০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের ৫৬টি বিশেষ তদারকি দল সারা দেশে একযোগে মাঠে নেমে এই ব্যাপক অভিযান সম্পন্ন করে। প্রধানত তাজা ফল, রান্নার ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারগুলোতে মূল্য স্থিতিশীল রাখা, পণ্যের সুষম সরবরাহ স্বাভাবিক নিশ্চিত করা এবং সাধারণ ভোক্তাদের সঠিক ও ন্যায্যমূল্যে কেনাকাটা করার সুযোগ তৈরি করতেই জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এই তদারকি উদ্যোগ গ্রহণ করে।

অভিযান পরিচালনাকালে তদারকি দলগুলো বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে গিয়ে সরেজমিনে পণ্যের সঠিক বিক্রয়মূল্য, কেনাবেচার ক্যাশ মিমো বা ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার, প্রকাশ্য স্থানে ঝুলানো মূল্যতালিকা এবং ওজন ও পরিমাপের সঠিকতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে। একই সাথে বাজারে যেকোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি, অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অসাধু ব্যবসায়ীদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।

চলতি মৌসুমে ফলের বাজারে ভোক্তাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর বিষয়টিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। পচা বা বাসি ও নষ্ট ফল ভালো ফলের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রির চাতুরি এবং ফল সতেজ দেখাতে অননুমোদিত ক্ষতিকর রাসায়নিক বা বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহারের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থার হুশিয়ারি দেওয়া হয়। পাশাপাশি ফলের গুণগত মান বজায় রাখা এবং যৌক্তিক মূল্যে বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের পরিষ্কার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহে ব্যাঘাত কিংবা অবৈধ মজুতদারি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। প্রতিটি দোকানে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা ঝোলানো, ক্রয়-বিক্রয়ের রশিদ সংরক্ষণ এবং পরিমাপে সঠিকতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।

একই সঙ্গে বাজারে কেনাকাটা করার ক্ষেত্রে সাধারণ ভোক্তাদেরও সচেতন থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কেনাকাটার পূর্বে পণ্যের ঝুলানো মূল্যতালিকা দেখে নেওয়া, সঠিক ওজন বুঝে নেওয়া এবং প্যাকেটজাত বা মোড়কজাত পণ্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য (এমআরপি), উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ভালোভাবে পরখ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কেনাকাটার পাকা রশিদ সংরক্ষণের প্রতিও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

কেনাকাটার সময় অতিরিক্ত দাম নেওয়া, ওজনে কারচুপি করা বা কোনো ভেজাল ও প্রতারণার শিকার হলে সরাসরি জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সার্বক্ষণিক হটলাইন নম্বর ১৬১২১-এ অভিযোগ দায়ের করতে বলা হয়েছে। বাজারব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের প্রশাসনিক অভিযান সারা দেশে অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নিত্যপণ্যের বাজারে দেশজুড়ে তদারকি, ৪২ জেলায় জরিমানা

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৪০:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের অনিয়ম, অতিরিক্ত মূল্য আদায় এবং কৃত্রিম মূল্য কারসাজি কঠোরভাবে প্রতিরোধে দেশজুড়ে বিশেষ ও সাঁড়াশি তদারকি অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

গত সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন অঞ্চলসহ দেশের ৪২টি জেলায় একযোগে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে ভোক্তা স্বার্থবিরোধী নানা অনিয়মের দায়ে ১২০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের ৫৬টি বিশেষ তদারকি দল সারা দেশে একযোগে মাঠে নেমে এই ব্যাপক অভিযান সম্পন্ন করে। প্রধানত তাজা ফল, রান্নার ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারগুলোতে মূল্য স্থিতিশীল রাখা, পণ্যের সুষম সরবরাহ স্বাভাবিক নিশ্চিত করা এবং সাধারণ ভোক্তাদের সঠিক ও ন্যায্যমূল্যে কেনাকাটা করার সুযোগ তৈরি করতেই জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এই তদারকি উদ্যোগ গ্রহণ করে।

অভিযান পরিচালনাকালে তদারকি দলগুলো বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে গিয়ে সরেজমিনে পণ্যের সঠিক বিক্রয়মূল্য, কেনাবেচার ক্যাশ মিমো বা ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার, প্রকাশ্য স্থানে ঝুলানো মূল্যতালিকা এবং ওজন ও পরিমাপের সঠিকতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে। একই সাথে বাজারে যেকোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি, অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অসাধু ব্যবসায়ীদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।

চলতি মৌসুমে ফলের বাজারে ভোক্তাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর বিষয়টিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। পচা বা বাসি ও নষ্ট ফল ভালো ফলের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রির চাতুরি এবং ফল সতেজ দেখাতে অননুমোদিত ক্ষতিকর রাসায়নিক বা বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহারের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থার হুশিয়ারি দেওয়া হয়। পাশাপাশি ফলের গুণগত মান বজায় রাখা এবং যৌক্তিক মূল্যে বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের পরিষ্কার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহে ব্যাঘাত কিংবা অবৈধ মজুতদারি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। প্রতিটি দোকানে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা ঝোলানো, ক্রয়-বিক্রয়ের রশিদ সংরক্ষণ এবং পরিমাপে সঠিকতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।

একই সঙ্গে বাজারে কেনাকাটা করার ক্ষেত্রে সাধারণ ভোক্তাদেরও সচেতন থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কেনাকাটার পূর্বে পণ্যের ঝুলানো মূল্যতালিকা দেখে নেওয়া, সঠিক ওজন বুঝে নেওয়া এবং প্যাকেটজাত বা মোড়কজাত পণ্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য (এমআরপি), উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ভালোভাবে পরখ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কেনাকাটার পাকা রশিদ সংরক্ষণের প্রতিও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

কেনাকাটার সময় অতিরিক্ত দাম নেওয়া, ওজনে কারচুপি করা বা কোনো ভেজাল ও প্রতারণার শিকার হলে সরাসরি জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সার্বক্ষণিক হটলাইন নম্বর ১৬১২১-এ অভিযোগ দায়ের করতে বলা হয়েছে। বাজারব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের প্রশাসনিক অভিযান সারা দেশে অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।