বিগত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতা রুহুল কবির রিজভী। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, একটি জাতির প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বমঞ্চে টিকে থাকার মূল ভিত্তি হলো শিক্ষা, অথচ দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক অবহেলা ও অনিয়মের কারণে দেশের শিক্ষার গুণগত মান বিপর্যস্ত হয়েছে।
অভিযোগ তুলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, অতীতে এমন পরিবেশ তৈরি হয়েছিল যেখানে শিক্ষার সঠিক মূল্যায়নের চেয়ে রাজনৈতিক প্রভাবকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো। উচ্চপর্যায় থেকে টেলিফোন করে শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার অনৈতিক নির্দেশ দেওয়া হতো। এই ধরনের জালিয়াতি ও অপচর্চার ফলে সার্বিকভাবে দেশে মেধাভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট হয়েছে এবং জাতীয় মেরুদণ্ড দুর্বল হয়ে পড়েছে।
বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বর্তমান যুগে টিকতে হলে শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে গড়ে তোলা অপরিহার্য। অথচ গত দেড় দশকে শিক্ষাব্যবস্থাকে এমন এক নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, যাতে বাংলাদেশের তরুণরা আন্তর্জাতিক সক্ষমতা অর্জনে পিছিয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় আধুনিক প্রযুক্তি সরঞ্জাম ও সুযোগ-সুবিধায় সজ্জিত করার জোর তাগিদ দেন তিনি।
নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার প্রসারে গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের সার্বিক কল্যাণে নারীদের শিক্ষিত ও দক্ষ করার বিকল্প নেই। এই লক্ষ্যে বিএনপির সরকারপ্রধান তারেক রহমান ইতোমধ্যে নারীদের জন্য স্নাতক (অনার্স) পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ, প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল দেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নতির দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।






















