সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংঘটিত এক আকস্মিক ও ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এখন পর্যন্ত মোট ১২ জন নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই হতাহতের ঘটনায় নিহতদের মধ্যে অন্তত দুই জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া এই বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি গুরুতর ও সাধারণ আহত হয়েছেন, যাদেরকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে হামলার আকস্মিকতা ও ব্যাপকতার কারণে এখন পর্যন্ত হতাহতের প্রকৃত ও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে সার্বিক তথ্য সংগ্রহের জোরালো প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান যে, সৌদির এই ভয়াবহ হামলার পর বিমানবন্দর এলাকায় আটকেপড়া এবং অক্ষত বা সুস্থ অবস্থায় থাকা বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নিরাপদ দুটি হোটেলে স্থানান্তর করা হয়েছে। পুরো পরিস্থিতির ওপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সার্বক্ষণিক সেখানকার যাবতীয় খোঁজখবর রাখছেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করে চলেছেন।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গমনকারী ৪১ জন সদস্যের একটি বড় ওমরাহ যাত্রীর দল রিয়াদ থেকে পবিত্র মদিনা বা জেদ্দার উদ্দেশে যাত্রার জন্য ওই বিমানবন্দরের একটি লাউঞ্জে বা প্রাঙ্গণে অপেক্ষমাণ ছিলেন। এই দলটি সম্পূর্ণভাবেই বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়ে গঠিত ছিল। এমন সময় হঠাৎ করেই বিকট শব্দে রিয়াদ বিমানবন্দর ভবনটি আকস্মিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ভয়াবহ হামলায় প্রাণ হারানো ১২ জনের মধ্যে প্রাথমিক অনুসন্ধানে দুই জন বাংলাদেশিকে শনাক্ত করা সম্ভব হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় বা নাম-ঠিকানা প্রকাশ করা হয়নি। এর পাশাপাশি, ওই বড় দলটির আরও অন্তত ১১ জন সদস্য এই মুহূর্তে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি যে দিকে মোড় নিচ্ছে, তাতে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ হলে এবং ধ্বংসস্তূপ অপসারণের পর হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বৃদ্ধি পেতে পারে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে যে, সৌদিতে আটকেপড়া ও ক্ষতিগ্রস্ত এই ওমরাহ যাত্রীদের দলটি মূলত রাজধানী ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল কামরাঙ্গীরচরের স্থানীয় একটি সুপরিচিত কওমি মাদরাসা—’জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম’-এর সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল। দেশের বাইরে গিয়ে এমন একটি হৃদয়বিদারক নিরাপত্তা সংকটের মুখে পড়ার কারণে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোতে গভীর শোক ও চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।






















