সারাদেশে কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া সহিংসতা, ছিনতাই ও মাদক কারবার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়লেও আইনের নানা জটিলতায় লাগাম টানা যাচ্ছে না। মাঠপর্যায়ে পুলিশি অভিযানের পর গ্রেপ্তারকৃতদের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর জায়গা না থাকা এবং প্রভাবশালী মহল ও রাজনৈতিক নেতাদের তদবিরে অনেকেই পার পেয়ে যাচ্ছে। ফলে বারবার অভিযানে আটকে পরও মুচলেকায় ছাড়া পেয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কিশোররা।
বিদ্যমান শিশু আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সীদের শিশু হিসেবে গণ্য করা হয়, যা আইনের সুরক্ষার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। তাছাড়া দেশে মাত্র তিনটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র থাকায় ৬০০ আসনের বিপরীতে সহস্রাধিক নিবাসী নিয়ে ধারণক্ষমতার চরম সংকট চলছে। অনেক ক্ষেত্রেই প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীরা কিশোরদের ব্যবহার করলেও মূল নেপথ্য কারিগররা অধরা থেকে যায়। সম্প্রতি কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে অভিযানের পর বিপুলসংখ্যক কিশোরকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।
এই বাস্তবতায় কিশোর অপরাধের শেকড় উপড়ে ফেলতে আইন সংশোধনসহ নতুন প্রস্তাবনা তৈরি করছে পুলিশ সদর দপ্তর। পাশাপাশি সারাদেশে কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা তৈরি এবং থানাভিত্তিক ডিজিটাল ডেটাবেজ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।


























