আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনের অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টার বিশেষ সাঁড়াশি অভিযানে চাঁদপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকদ্রব্যসহ মোট ২০ জন এবং কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় ৭০ জন সদস্যকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) সকালে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নাদিয়া নূর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের দেওয়া বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) দিনব্যাপী চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি এলাকায় একযোগে এই বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে মাদকসেবনের অপরাধে সুনির্দিষ্টভাবে আটজনকে আটক করে। এর পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১১ পিস ইয়াবাসহ আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিনে ফরিদগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয় এবং মামলার এজাহারনামীয় প্রধান এক আসামিকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়।
এছাড়া অন্যান্য থানাগুলোর মধ্যে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ ২৩ গ্রাম গাঁজাসহ দুজনকে, মতলব উত্তর থানা পুলিশ ২৪ পিস ইয়াবা ও ২০ গ্রাম গাঁজাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পাশাপাশি হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ ৫ পিস ইয়াবাসহ দুজনকে, শাহরাস্তি থানা পুলিশ ৬ পিস ইয়াবাসহ দুজনকে এবং কচুয়া থানা পুলিশ ৫ পিস ইয়াবা ও ১৫০ গ্রাম গাঁজাসহ আরও দুজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে। সবমিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টার এই মাদকবিরোধী অভিযানে মোট ৫১ পিস ইয়াবা এবং ২৯৩ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি একই সময়ে জেলা জুড়ে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও অপতৎপরতা দমনে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মোট ৭০ জন কিশোরকে আটক করা হয়। এর মধ্যে হাইমচর থানা এলাকায় ১ জন, ফরিদগঞ্জ থানায় ১৪ জন, মতলব উত্তর থানায় ৮ জন, হাজীগঞ্জ থানায় ১৪ জন, শাহরাস্তি থানায় ১৭ জন এবং কচুয়া থানায় ১৬ জন কিশোরকে আটক করা হয়। পরবর্তী সময়ে থানায় এনে তাদের বিস্তারিত কর্মকাণ্ড যাচাই-বাছাই করা হয় এবং অভিভাবকদের উপস্থিতিতে মুচলেকা নিয়ে আটক কিশোরদের নিজ নিজ অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।
চাঁদপুর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান এই সফল অভিযানের বিষয়ে জোরালো মন্তব্য করে বলেন যে, জেলার মাটি থেকে যেকোনো মূল্যে মাদক এবং কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক অপরাধ সম্পূর্ণ নির্মূল করতে জেলা পুলিশ সর্বদাই বদ্ধপরিকর এবং কঠোর অবস্থানে রয়েছে। একটি সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে তিনি সমাজের সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব কামনা করেন। পাশাপাশি, মাদকের কেনাবেচা কিংবা অপরাধ সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের গোপন তথ্য পেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা অথবা জেলা পুলিশের অফিসিয়াল হটলাইনে জানানোর জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

























