বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে কোনো ধরনের মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজদের স্থান হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও ও দক্ষিণ গফরগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু। দলের কোনো নেতা বা কর্মীর বিরুদ্ধে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
গত শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চরমছলন্দ মুসলিম উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। গফরগাঁও ও দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার সামগ্রিক উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে চরআলগী ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন যৌথভাবে এই জনসভার আয়োজন করে।
জনসভায় উপস্থিত উপস্থিত সুধী ও জনসাধারণের উদ্দেশে এমপি মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেন যে, ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা এক নতুন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পেয়েছি। এই নতুন বাংলাদেশে বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আমলের মতো কোনো মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজদের স্থান আর হতে দেওয়া হবে না। আমাদের নিজেদের দলের কোনো নেতা বা কর্মীর বিরুদ্ধেও যদি কোনো অন্যায় বা অপকর্মের অভিযোগ ওঠে, তবে দল কঠোরভাবে বিচার বিবেচনা করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।
তিনি সাধারণ জনগণকে সতর্ক করে আরও বলেন, যারা ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে বেহেশতের টিকিট বিক্রি করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল ও ভোট আদায়ের পাঁয়তারা করে, সেই সব সুপ্ত ও গুপ্ত সংগঠনের অপতৎপরতা থেকে সবাইকে চরম সাবধান থাকতে হবে। কোনো দুষ্কৃতকারী বা দুষ্ট লোকের মিষ্টি কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে তাদের স্পষ্ট প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, চরআলগীর মাটি হচ্ছে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি, তাই স্বাধীনতা বিরোধী কোনো অপশক্তির স্থান এই মাটিতে হবে না। এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সমর্থিত প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য তিনি স্থানীয়দের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে গফরগাঁও ও দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে সংসদ সদস্য জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় এই দুই উপজেলাকে একটি আধুনিক ও আলোকিত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে এই দুটি সংসদীয় এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্য প্রায় সাড়ে ৩৫০ কোটি টাকার বিশেষ সরকারি তহবিল ও বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে, যার কাজ বর্তমানে পুরোদমে চলমান রয়েছে। বিশেষ করে অবহেলিত চরআলগী ইউনিয়নের উন্নয়নের পুরো দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে তিনি ঘোষণা করেন যে, চরআলগীতে একটি আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে এবং এর পাশাপাশি সংযোগ সড়ক ও একাধিক নতুন সেতুর নির্মাণকাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
চরআলগী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বেলাল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. ইসহাক, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ফজলুল হক, দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এ কে এম আনসার উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আবদুল্লাহ আল মামুন এবং পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সালাম বেপারীসহ ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।






















