ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে দেশের গণতন্ত্রকে চরমভাবে দুর্বল করা এবং সাধারণ নাগরিক ও বিক্ষোভকারীদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। রাজধানী নয়াদিল্লিতে ভোটার তালিকায় কারচুপি ও ভোট চুরির প্রতিবাদে আয়োজিত ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) গণবিক্ষোভে পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড় ও দমনপীড়নের তীব্র বিরোধিতা করে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভারত এখন আর স্বাধীন গণতন্ত্র নেই, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।” মোদি সরকার বিরোধী দলের সংসদ সদস্য ও আন্দোলনকারী তরুণদের অন্যায়ভাবে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে এবং রাজধানীজুড়ে অঘোষিত বিধিনিষেধ আরোপ করে সার্বিক শাসনব্যবস্থাকে সংকুচিত করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেত্রী দাবি করেন, রাজপথ থেকে ২৫৪ জন সংসদ সদস্যকে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবাদের আগুন নেভাতে নয়াদিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জনগণের চলাচলে কঠোর বাধা সৃষ্টি, গণপরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত, মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করে শান্তিপূূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া অসংখ্য তরুণকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী অভিযোগ করেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পারস্পরিক যোগসাজশেই বড় ধরনের নির্বাচনী অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জবাবদিহির মুখোমুখি হওয়ার ভয় থেকেই ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।
একই সঙ্গে দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল ও দলীয়করণ করতে যারা সরকারকে সহায়তা করছে, তাদের কঠোর সমালোচনা করে কংগ্রেস নেত্রী বলেন, এ ধরনের অপকর্ম মূলত “দেশের সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা” ছাড়া আর কিছুই নয়।























