বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অজুহাতে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অনেক আহত জুলাইযোদ্ধাকে প্রাতিষ্ঠানিক গেজেটভুক্ত করেনি বলে তীব্র ক্ষোভ ও অভিযোগ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বহু আহত রাজপথের যোদ্ধাকে প্রাপ্য চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, যার ফলে তাঁদের অনেকেই আজ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করতে বাধ্য হয়েছেন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের টিটু মিলনায়তনে জুলাই-২৪ গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘রাইজিংবিডি.কম’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, “ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলের একক সম্পত্তি নয়। চব্বিশের রাজপথে রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেমেছিলেন।” তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর’-এর মাধ্যমে বর্তমানে আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসনে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে, যেখানে কোনো রাজনৈতিক দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না। বাদ পড়া প্রকৃত আহত জুলাইযোদ্ধাদের জন্য সীমিত সময়ের জন্য পুনরায় আবেদন গ্রহণের সুযোগ চালু করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, আহত জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের উপযুক্ত সুচিকিৎসা, দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন এবং তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। আন্দোলনের সময় যারা স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাঁদের শারীরিক প্রয়োজন ও দক্ষতা অনুযায়ী কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজনসহ অর্থবহ পুনর্বাসনের বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে মোট ১৭টি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের শক্তিশালী কমিটি কাজ করে যাচ্ছে।
‘জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ রাজশাহী বিভাগের সভাপতি উজ্জ্বল হোসেন জোবায়েলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক ফকিরের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এমপি, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির, জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুবর রহমান হারেজ, পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক ড. আব্দুল মজিদ, জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির কেন্দ্রীয় সভাপতি গোলাম রহমান এবং ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র কেন্দ্রীয় সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমনসহ স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। স্মরণসভা শেষে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বীর জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।






















