পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন ‘রোসাটম’। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই এই বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাশিয়া ভিত্তিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মস্কোয় বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভের অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ‘স্ট্রিম’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে রূপপুর প্রকল্পের সার্বিক কাজের অগ্রগতি ও ১ম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সংযোগের সময়সীমা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। রোসাটম প্রধান অ্যালেক্সি লিখাচেভ জানান, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহে মূল ভূমিকা পালন করবে। আগামী বছর থেকেই প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের আনুষ্ঠানিক কমিশনিং এবং প্রাথমিক চালুর কার্যক্রম শুরু হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, রূপপুর প্রকল্পের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট, যা পুরোপুরি চালু হলে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১১ শতাংশ এককভাবে মেটাতে সক্ষম হবে।
এদিকে রূপপুর প্রকল্পের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া (ক্রিটিক্যালিটি) শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কঠোর নিরাপত্তা গাইডলাইন অনুসরণ করে রাশিয়ার কারিগরি সহযোগিতায় প্রকল্পের ‘বি-ওয়ান’ ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ইতোমধ্যেই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ টেস্টের জটিলতা কাটিয়ে ওঠার পর কেন্দ্রটি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বি-টু’ ধাপে প্রবেশ করছে।
এর পাশাপাশি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একই স্থানে ভবিষ্যতের জন্য সমান ক্ষমতার আরও দুটি নতুন পারমাণবিক ইউনিট নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন ইউনিট দুটি নির্মিত হলে রূপপুরের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৪ হাজার ৮০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বাপশক) আগামী পাঁচ বছরের কৌশলগত কর্মপরিকল্পনায় নতুন দুটি ইউনিটের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তির আদান-প্রদান ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।






















