Dhaka ১২:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

অভাবের তাড়নায় থমকে আছে মেধাবী শামীমের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার স্বপ্ন

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৮:৪০:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২ বার দেখা হয়েছে

পবিত্র কোরআন মুখস্থ করে হাফেজ হওয়ার স্বপ্ন ছিল মেধাবী তরুণ শামীম রানার (২৬)। কিন্তু হঠাৎ মানসিক অসুস্থতা ও নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে থমকে আছে তার স্বাভাবিক জীবন। একপর্যায়ে উগ্র আচরণের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে প্রায় এক বছর শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়েছিল। বর্তমানে শিকল থেকে মুক্তি মিললেও অর্থাভাবের কারণে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার চিকিৎসা থমকৈ গেছে এই তরুণের।

শামীমের বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে। তার বাবা নজরুল ইসলাম পেশায় একজন রিকশাচালক এবং মা শাহানাজ বেগম একটি পোশাক কারখানার কর্মী। শামীমের মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা মাকছুদুর রহমান জানান, শামীম নাজেরা বিভাগে পড়ার সময় অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল। কিন্তু ২০১৩ সালে হঠাৎ করেই তার মানসিক সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। এরপর থেকেই শুরু হয় পরিবারের দীর্ঘ লড়াই। ঢাকার মানসিক হাসপাতাল ও পাবনাসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে দীর্ঘদিন তার চিকিৎসা করানো হয়। বর্তমানে তার নিয়মিত চিকিৎসা চলছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি এই চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে এখন সম্পূর্ণ দিশাহারা দরিদ্র পরিবারটি।

শামীমের বাবা নজরুল ইসলাম প্রতিদিন রিকশা চালিয়ে সামান্য কিছু আয় করেন। এই সামান্য আয় দিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে সংসার চালানোই যেখানে দায়, সেখানে ছেলের চিকিৎসার খরচ টানা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, শামীমকে সুস্থ করতে প্রতি মাসে নিয়মিত ওষুধ প্রয়োজন। কিন্তু সামর্থ্য না থাকায় নিরুপায় বাবা বাধ্য হয়ে ওষুধ কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। সরকারিভাবে শামীম প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পর ঋণের বোঝা এবং অসুস্থ ছেলের চিকিৎসার ব্যয় একাই টেনে যাচ্ছেন এই রিকশাচালক বাবা। শামীমকে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সমাজের বিত্তবান, মানবিক সংগঠন ও সহৃদয় ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আকুল আবেদন জানিয়েছেন তার পরিবার।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

অভাবের তাড়নায় থমকে আছে মেধাবী শামীমের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার স্বপ্ন

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৮:৪০:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

পবিত্র কোরআন মুখস্থ করে হাফেজ হওয়ার স্বপ্ন ছিল মেধাবী তরুণ শামীম রানার (২৬)। কিন্তু হঠাৎ মানসিক অসুস্থতা ও নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে থমকে আছে তার স্বাভাবিক জীবন। একপর্যায়ে উগ্র আচরণের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে প্রায় এক বছর শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়েছিল। বর্তমানে শিকল থেকে মুক্তি মিললেও অর্থাভাবের কারণে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার চিকিৎসা থমকৈ গেছে এই তরুণের।

শামীমের বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে। তার বাবা নজরুল ইসলাম পেশায় একজন রিকশাচালক এবং মা শাহানাজ বেগম একটি পোশাক কারখানার কর্মী। শামীমের মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা মাকছুদুর রহমান জানান, শামীম নাজেরা বিভাগে পড়ার সময় অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল। কিন্তু ২০১৩ সালে হঠাৎ করেই তার মানসিক সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। এরপর থেকেই শুরু হয় পরিবারের দীর্ঘ লড়াই। ঢাকার মানসিক হাসপাতাল ও পাবনাসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে দীর্ঘদিন তার চিকিৎসা করানো হয়। বর্তমানে তার নিয়মিত চিকিৎসা চলছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি এই চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে এখন সম্পূর্ণ দিশাহারা দরিদ্র পরিবারটি।

শামীমের বাবা নজরুল ইসলাম প্রতিদিন রিকশা চালিয়ে সামান্য কিছু আয় করেন। এই সামান্য আয় দিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে সংসার চালানোই যেখানে দায়, সেখানে ছেলের চিকিৎসার খরচ টানা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, শামীমকে সুস্থ করতে প্রতি মাসে নিয়মিত ওষুধ প্রয়োজন। কিন্তু সামর্থ্য না থাকায় নিরুপায় বাবা বাধ্য হয়ে ওষুধ কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। সরকারিভাবে শামীম প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পর ঋণের বোঝা এবং অসুস্থ ছেলের চিকিৎসার ব্যয় একাই টেনে যাচ্ছেন এই রিকশাচালক বাবা। শামীমকে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সমাজের বিত্তবান, মানবিক সংগঠন ও সহৃদয় ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আকুল আবেদন জানিয়েছেন তার পরিবার।