পবিত্র কোরআন মুখস্থ করে হাফেজ হওয়ার স্বপ্ন ছিল মেধাবী তরুণ শামীম রানার (২৬)। কিন্তু হঠাৎ মানসিক অসুস্থতা ও নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে থমকে আছে তার স্বাভাবিক জীবন। একপর্যায়ে উগ্র আচরণের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে প্রায় এক বছর শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়েছিল। বর্তমানে শিকল থেকে মুক্তি মিললেও অর্থাভাবের কারণে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার চিকিৎসা থমকৈ গেছে এই তরুণের।
শামীমের বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে। তার বাবা নজরুল ইসলাম পেশায় একজন রিকশাচালক এবং মা শাহানাজ বেগম একটি পোশাক কারখানার কর্মী। শামীমের মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা মাকছুদুর রহমান জানান, শামীম নাজেরা বিভাগে পড়ার সময় অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল। কিন্তু ২০১৩ সালে হঠাৎ করেই তার মানসিক সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। এরপর থেকেই শুরু হয় পরিবারের দীর্ঘ লড়াই। ঢাকার মানসিক হাসপাতাল ও পাবনাসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে দীর্ঘদিন তার চিকিৎসা করানো হয়। বর্তমানে তার নিয়মিত চিকিৎসা চলছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি এই চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে এখন সম্পূর্ণ দিশাহারা দরিদ্র পরিবারটি।
শামীমের বাবা নজরুল ইসলাম প্রতিদিন রিকশা চালিয়ে সামান্য কিছু আয় করেন। এই সামান্য আয় দিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে সংসার চালানোই যেখানে দায়, সেখানে ছেলের চিকিৎসার খরচ টানা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, শামীমকে সুস্থ করতে প্রতি মাসে নিয়মিত ওষুধ প্রয়োজন। কিন্তু সামর্থ্য না থাকায় নিরুপায় বাবা বাধ্য হয়ে ওষুধ কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। সরকারিভাবে শামীম প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পর ঋণের বোঝা এবং অসুস্থ ছেলের চিকিৎসার ব্যয় একাই টেনে যাচ্ছেন এই রিকশাচালক বাবা। শামীমকে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সমাজের বিত্তবান, মানবিক সংগঠন ও সহৃদয় ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আকুল আবেদন জানিয়েছেন তার পরিবার।






















