একটি ছোট আকৃতির ইলিশ মাছের ডিম থেকে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ ইলিশের নতুন বাচ্চা জন্ম নিতে পারে বলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি জোরালোভাবে আহ্বান জানিয়েছেন যে, জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষা করার মূল দায়িত্ব এ দেশের সাধারণ জেলেদেরই পালন করতে হবে।
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) সকালে মাদারীপুর জেলার শিবচরের কাওড়াকান্দি এলাকায় উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অফিসের যৌথ উদ্যোগে স্থানীয় জেলেদের মাঝে সরকারি চাল বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করেন। প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন যে, আমরা যেকোনো মূল্যের বিনিময়ে আমাদের দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ বৃদ্ধি করতে চাই। বাংলাদেশকে হৃদয়ে ধারণ করে এবং গভীর দেশপ্রেমের সুমহান চেতনা নিয়ে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এ দেশের ইলিশ সম্পদ মূলত জেলেদেরই সম্পদ, তাই এর সুরক্ষার প্রাথমিক ও প্রধান দায়িত্বও তাঁদের কাঁধেই বর্তায়।
ইলিশের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি ছোট ইলিশের ডিম থেকেই যেখানে দেড় থেকে দুই লাখ বাচ্চা হয়, সেখানে একটি বড় আকৃতির পূর্ণাঙ্গ ইলিশের ডিম থেকে কমপক্ষে ২০ লাখ পর্যন্ত মাছের বাচ্চা হওয়া সম্পূর্ণ সম্ভব। এই অপার সম্পদ আমাদের সকলের এবং বিশেষ করে নদীপারের জেলেদের। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন যে, জলাশয় সবসময় উন্মুক্ত থাকবে এবং আমাদের নীতি অনুযায়ী ‘জাল যার, জলা তার’। তাই প্রজনন মৌসুমে মাত্র ২২টি দিন মৎস্যজীবীদের একটু ধৈর্য ধারণ করে কষ্ট করতে হবে। সরকার এই সময়ের জন্য প্রতিটি জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি করে চাল সহায়তা দিচ্ছে। এই অল্প কটি দিন যদি জেলেরা একটু কষ্ট সহ্য করেন, তবে তাদের উৎপাদিত ও আহরণকৃত ইলিশ সম্পদের পরিমাণ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
ইলিশের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান যে, ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ এবং একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ জিআই বা ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য। বিশ্বের যে কয়টি দেশে ইলিশ পাওয়া যায়, তার মধ্যে একা বাংলাদেশই প্রায় ৭০ ভাগ ইলিশ উৎপাদন করে থাকে। সুতরাং, এই জাতীয় সম্পদ রক্ষা করার নৈতিক দায়িত্ব আমাদের সকলের। বিশেষ করে মাদারীপুর অঞ্চল ইলিশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান এবং প্রমত্তা পদ্মার এই নদীতেই দেশের সবচেয়ে সুস্বাদু ইলিশ পাওয়া যায়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনকে তাদের ওপর অর্পিত সঠিক দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে। কেউ যেন কোনোভাবেই কোনো ধরনের অবৈধ জাল ব্যবহার করে মা ইলিশ বা ছোট পোনা নিধন করতে না পারে, সেদিকে সর্বোচ্চ সতর্কদৃষ্টি রাখতে হবে। আমাদের নিজেদের সচেতন হতে হবে এবং নিজেদের সম্পদ নিজেদেরই কঠোর হাতে রক্ষা করতে হবে।
এর পাশাপাশি বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় সামাজিক ব্যাধি মাদকের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন বার্তা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদক আমাদের যুব সমাজকে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দিচ্ছে। যেকোনো মূল্যে মাদক সেবন ও এর বেচাকেনা থেকে আমাদের দূরে থাকতে হবে। প্রত্যেক পরিবারকে ব্যক্তিগতভাবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে পরিবারের কোনো সদস্য বা স্বজন কোনোভাবেই মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে না পারে। আমরা সকলে মিলে এ দেশকে একটি সম্পূর্ণ স্বনির্ভর দেশ এবং অর্থনৈতিকভাবে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ।
মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তারের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা, মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. ফজলে এলাহী, মৎস্য অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক মো. আহসান হাবীব খান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সরকার, বিএনপি নেত্রী নাদিরা মিঠু চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন খান এবং সদস্য সচিব মো. সোহেল রানাসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।






















