বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ৭ বছর পূর্তি এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তীব্র ও চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) সকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি দীর্ঘ ও জোরালো পোস্ট শেয়ার করে তিনি আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা, আসামিপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির এবং তৎকালীন ছাত্ররাজনীতির বিভিন্ন বিতর্কিত দিক নিয়ে মুখ খুলেছেন।
পোস্টে রাশেদ খাঁন বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির আইনি লড়াই পরিচালনা করায় আবরার ফাহাদের বাবা অত্যন্ত কষ্ট পেয়েছেন এবং বিষয়টি জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন। আসামিদের পক্ষে আদালতে দাঁড়ানোর কারণে অতীতেও শিশির মনিরকে তীব্র সামাজিক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তিনি মামলার আইনি লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন অত্যন্ত কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন যে, শিশির মনিররা আদতে ছিলেন আবরার ফাহাদের খুনি তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল ছাত্রলীগের পক্ষের কাপুরুষ। তাঁর দাবি, সেই দুঃসময়ে ছাত্রশিবির মূলত ছাত্রলীগ হয়েই বেঁচে ছিল এবং তাঁরা যদি সবাই এভাবে কায়দা করে বেঁচে থাকার নীতি গ্রহণ করতেন, তবে আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিবাদ করার জন্য রাজপথে কোনো একজন মানুষকেও খুঁজে পাওয়া যেত না।
তৎকালীন আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস স্মরণ করে রাশেদ খাঁন জানান যে, যখন আবরার ফাহাদকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ‘শিবির’ ট্যাগ দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এর বিচারের দাবিতে সর্বপ্রথমে প্রতিবাদী মিছিল বের করেছিলেন তৎকালীন ডাকসুর ভিপি এবং ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের অন্যতম অগ্নিপুরুষ নুরুল হক নুর। তিনি বলেন যে, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সেই ভয়াল ও কঠিন দিনগুলোতে বর্তমান ছাত্রশিবিরের কোনো শীর্ষ নেতার কোনো ধরনের অস্তিত্ব বা দৃশ্যমান ভূমিকা ছিল না; বরং তাঁদের অনেকেই সেসময় হল ও ডিপার্টমেন্ট পর্যায়ে ছাত্রলীগের পদধারী নেতা হিসেবে বহাল ছিলেন। বর্তমান সময়ে জামায়াত-শিবিরের পক্ষ থেকে ভিপি নুরকে নানাভাবে গালিগালাজ ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হলেও, বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভিপি নুরের যে ঐতিহাসিক ও আপসহীন অবদান রয়েছে, তা পুরো জামায়াত-শিবিরের সম্মিলিত অবদানের চেয়েও বহুগুণ বেশি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাশেদ খাঁন আরও দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের কঠিন সময়ে ভিপি নুর ছিলেন এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও সাহসী তরুণ নেতৃত্বের প্রতীক। জামায়াত-শিবির বা সংশ্লিষ্টরা একসঙ্গে শত শত সাদিক কায়েম জন্ম দিলেও তাঁরা কখনো ভিপি নুরের সাহসিকতার একশো ভাগের এক ভাগও হতে পারবে না, কারণ ভিপি নুর নামটি মূলত সাহসের এক মূর্ত প্রতীক। উল্লেখ্য, বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত)-এর কিছু উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মী মিথ্যা ‘শিবির’ ট্যাগ বা তকমা দিয়ে নির্যাতন চালিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। আবরার ফাহাদ নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন কি না বা আদৌ কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে এখনো নানা অস্পষ্টতা ও বিতর্ক রয়েছে, যা এ দেশের ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।























