দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির এক ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬ দশমিক ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, দেশের এই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ১২৩ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ-এর সুনির্দিষ্ট হিসাব পদ্ধতি তথা বিপিএম-৬ (BPM-6) মানদণ্ড অনুযায়ী দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রকৃত রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৩১১ দশমিক ১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।
এর ঠিক পূর্বে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত দেশের মোট গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ হাজার ১৪৫ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন ডলার এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাবকৃত রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ২৯৮ দশমিক ২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুতে কিছুটা ওঠানামা ও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ নিখুঁতভাবে গণনা করা হয় আইএমএফ-এর বিপিএম-৬ পরিমাপ পদ্ধতি অনুসরণ করে। এই নিয়মের অধীনে দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ থেকে বিভিন্ন ধরনের স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক দায় বা দেনা বিয়োগ করার পরই কেবল নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের সঠিক ও বাস্তবসম্মত পরিমাণ নির্ধারিত হয়ে থাকে। বৈদেশিক মুদ্রার এই স্থিতিশীলতা দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক বাণিজ্য, আমদানি ব্যয় পরিশোধ এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের ওপর আস্থার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে কাজ করে থাকে।






















