Dhaka ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিটি সংসদীয় আসনের উন্নয়নে ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:৫৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১০ বার দেখা হয়েছে

সংসদীয় আসনের সার্বিক উন্নয়নে বরাদ্দ প্রায় ২২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে একটি বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে অবস্থিত সংসদীয় আসনগুলোর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে মোট ৯টি নতুন প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি চলমান দুটি প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন ও সংশোধিত সমস্ত প্রকল্প মিলিয়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ হাজার ৪১ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারের এই প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হলে দেশের প্রতিটি সংসদীয় আসনে গড়ে ৮০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হবে। পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর তৎকালীন সরকার প্রতিটি সংসদীয় আসনের জন্য গড়ে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের একটি প্রস্তাব করলেও তা শেষ পর্যন্ত অনুমোদন পায়নি। ২০০৫ সালে প্রতিটি সংসদীয় আসনে মাত্র দুই কোটি টাকা দিয়ে এই স্বতন্ত্র উন্নয়ন বরাদ্দের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, যা ২০০৯ সালে বেড়ে ১৫ কোটি এবং ২০২০ সালে ২০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়।

প্রস্তাবিত নতুন এই বরাদ্দের আওতায় সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরের সংসদীয় আসনগুলোর উন্নয়নে স্থানীয় সরকার বিভাগ পরিকল্পনা কমিশনে মোট ২০ হাজার ৩৬ কোটি টাকার ৯টি নতুন প্রকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এর মধ্যে আটটি প্রকল্প মূলত বিভাগভিত্তিক গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে এবং একটি প্রকল্প সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর আওতায় স্থানীয় সংসদ সদস্যদের চাহিদা ও পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকার সড়ক, সেতু, কালভার্ট, হাটবাজার এবং ধর্মীয় ও সামাজিক স্থাপনা নির্মাণ ও সংস্কারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অর্থাৎ নির্বাচনী এলাকার কোন নির্দিষ্ট স্থানে কী ধরনের উন্নয়নকাজ পরিচালিত হবে, তার চাহিদা নির্ধারণে সংসদ সদস্যরা মুখ্য ভূমিকা পালন করবেন এবং পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সেই সমস্ত কাজ বাছাই ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে।

তবে সংসদীয় আসনভিত্তিক এই বিশাল অঙ্কের বরাদ্দ কাঠামো এবং এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর আগে এই খাতের বেশ কিছু প্রকল্প নিয়ে গবেষণা করে দরপত্র প্রক্রিয়া, বাস্তবায়ন এবং বিল পরিশোধের নানা পর্যায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেছিল। গবেষণায় নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কাজ কমিয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠে এসেছিল। এছাড়া, প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর অর্থ বণ্টনে কেবল সংসদীয় আসনের সংখ্যাকে একক ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে; ফলে এলাকার সুনির্দিষ্ট জনসংখ্যা, দারিদ্র্যের হার কিংবা প্রকৃত অবকাঠামোগত ঘাটতিকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এর ফলে তুলনামূলক বেশি দরিদ্র বরিশাল বা রংপুর বিভাগ এবং কম দরিদ্র চট্টগ্রাম বা খুলনা বিভাগের আসনগুলো একই রকম বরাদ্দ কাঠামোর আওতায় চলে এসেছে।

এদিকে নতুন করে বড় অঙ্কের প্রকল্প হাতে নেওয়ার পাশাপাশি পুরোনো চলমান প্রকল্পগুলোতে প্রচুর পরিমাণ অর্থ অব্যয়িত পড়ে থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, ‘গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩’-এর ব্যয় আরও চার হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও জুন মাস পর্যন্ত ওই প্রকল্পেই প্রায় ৪৩২ কোটি টাকা অব্যয়িত অবস্থায় ছিল। একইভাবে ‘সাধারণ সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২’-এও শত শত কোটি টাকা অলস পড়ে রয়েছে। এলজিইডির প্রকল্প পরিচালক মো. আশরাফুজ্জামান জানিয়েছেন যে, সংসদ সদস্যদের চাহিদার ভিত্তিতেই জরুরি কাজগুলো চলমান প্রকল্পের মাধ্যমে এবং বাকি কাজ নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে, যা দেশের বিশাল গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্কের সংস্কারকাজে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানসহ অন্যান্য বিশ্লেষকদের মতে, বিগত দুই দশকের দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় এই ধরনের আসনভিত্তিক স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে জনগণের অর্থের ব্যাপক অপব্যবহার, উন্নয়নের দলীয়করণ এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই পুরোনো অভিজ্ঞতাগুলোর কোনো ধরনের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন ছাড়া এবং স্বচ্ছতা ও কাজের মান নিশ্চিত না করে বরাদ্দ তিন গুণের বেশি বাড়িয়ে দিলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি থেকেই যাবে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রতিটি সংসদীয় আসনের উন্নয়নে ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:৫৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

সংসদীয় আসনের সার্বিক উন্নয়নে বরাদ্দ প্রায় ২২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে একটি বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে অবস্থিত সংসদীয় আসনগুলোর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে মোট ৯টি নতুন প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি চলমান দুটি প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন ও সংশোধিত সমস্ত প্রকল্প মিলিয়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ হাজার ৪১ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারের এই প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হলে দেশের প্রতিটি সংসদীয় আসনে গড়ে ৮০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হবে। পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর তৎকালীন সরকার প্রতিটি সংসদীয় আসনের জন্য গড়ে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের একটি প্রস্তাব করলেও তা শেষ পর্যন্ত অনুমোদন পায়নি। ২০০৫ সালে প্রতিটি সংসদীয় আসনে মাত্র দুই কোটি টাকা দিয়ে এই স্বতন্ত্র উন্নয়ন বরাদ্দের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, যা ২০০৯ সালে বেড়ে ১৫ কোটি এবং ২০২০ সালে ২০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়।

প্রস্তাবিত নতুন এই বরাদ্দের আওতায় সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরের সংসদীয় আসনগুলোর উন্নয়নে স্থানীয় সরকার বিভাগ পরিকল্পনা কমিশনে মোট ২০ হাজার ৩৬ কোটি টাকার ৯টি নতুন প্রকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এর মধ্যে আটটি প্রকল্প মূলত বিভাগভিত্তিক গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে এবং একটি প্রকল্প সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর আওতায় স্থানীয় সংসদ সদস্যদের চাহিদা ও পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকার সড়ক, সেতু, কালভার্ট, হাটবাজার এবং ধর্মীয় ও সামাজিক স্থাপনা নির্মাণ ও সংস্কারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অর্থাৎ নির্বাচনী এলাকার কোন নির্দিষ্ট স্থানে কী ধরনের উন্নয়নকাজ পরিচালিত হবে, তার চাহিদা নির্ধারণে সংসদ সদস্যরা মুখ্য ভূমিকা পালন করবেন এবং পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সেই সমস্ত কাজ বাছাই ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে।

তবে সংসদীয় আসনভিত্তিক এই বিশাল অঙ্কের বরাদ্দ কাঠামো এবং এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর আগে এই খাতের বেশ কিছু প্রকল্প নিয়ে গবেষণা করে দরপত্র প্রক্রিয়া, বাস্তবায়ন এবং বিল পরিশোধের নানা পর্যায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেছিল। গবেষণায় নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কাজ কমিয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠে এসেছিল। এছাড়া, প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর অর্থ বণ্টনে কেবল সংসদীয় আসনের সংখ্যাকে একক ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে; ফলে এলাকার সুনির্দিষ্ট জনসংখ্যা, দারিদ্র্যের হার কিংবা প্রকৃত অবকাঠামোগত ঘাটতিকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এর ফলে তুলনামূলক বেশি দরিদ্র বরিশাল বা রংপুর বিভাগ এবং কম দরিদ্র চট্টগ্রাম বা খুলনা বিভাগের আসনগুলো একই রকম বরাদ্দ কাঠামোর আওতায় চলে এসেছে।

এদিকে নতুন করে বড় অঙ্কের প্রকল্প হাতে নেওয়ার পাশাপাশি পুরোনো চলমান প্রকল্পগুলোতে প্রচুর পরিমাণ অর্থ অব্যয়িত পড়ে থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, ‘গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩’-এর ব্যয় আরও চার হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও জুন মাস পর্যন্ত ওই প্রকল্পেই প্রায় ৪৩২ কোটি টাকা অব্যয়িত অবস্থায় ছিল। একইভাবে ‘সাধারণ সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২’-এও শত শত কোটি টাকা অলস পড়ে রয়েছে। এলজিইডির প্রকল্প পরিচালক মো. আশরাফুজ্জামান জানিয়েছেন যে, সংসদ সদস্যদের চাহিদার ভিত্তিতেই জরুরি কাজগুলো চলমান প্রকল্পের মাধ্যমে এবং বাকি কাজ নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে, যা দেশের বিশাল গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্কের সংস্কারকাজে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানসহ অন্যান্য বিশ্লেষকদের মতে, বিগত দুই দশকের দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় এই ধরনের আসনভিত্তিক স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে জনগণের অর্থের ব্যাপক অপব্যবহার, উন্নয়নের দলীয়করণ এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই পুরোনো অভিজ্ঞতাগুলোর কোনো ধরনের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন ছাড়া এবং স্বচ্ছতা ও কাজের মান নিশ্চিত না করে বরাদ্দ তিন গুণের বেশি বাড়িয়ে দিলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি থেকেই যাবে।