Dhaka ১১:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

কৃষ্ণসাগরে বুলগেরিয়ার উপকূলে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলা

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৩:৫১:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৬ বার দেখা হয়েছে

কৃষ্ণসাগরে বুলগেরিয়ার উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে রহস্যজনক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ভয়াবহ হামলায় একটি জাহাজ সম্পূর্ণ ডুবে গেছে এবং সেটির নাবিকেরা বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছেন। তবে অপর আক্রান্ত জাহাজটির ১৮ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বুলগেরিয়ার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম বিএনআর সূত্রে জানা গেছে, ডুবে যাওয়া জাহাজটির নাবিকদের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, অপর জাহাজটিতে হামলা ও আগুন লাগার পর আতঙ্কিত নাবিকেরা দ্রুত জাহাজটি ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তাঁদের একটি বুলগেরীয় ফেরিতে নিরাপদে তুলে নেওয়া হয়। উদ্ধার হওয়া ওই নাবিকদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

বুলগেরিয়ার নৌপরিবহনবিষয়ক বিশিষ্ট সংবাদমাধ্যম ‘মেরিটাইম ডটবিজি’-এর তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় যে জাহাজটি ডুবে গেছে সেটির নাম ‘আলফা ওয়াতান’ এবং অপর আক্রান্ত জাহাজটির নাম ‘এবল’। তবে বর্তমান পর্যন্ত এই ড্রোন হামলাগুলো ঠিক কোথা থেকে বা কোন উৎস থেকে পরিচালিত হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। জাহাজসমূহের গতিপথ পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ‘ভেসেলফাইন্ডার’-এর প্রাপ্ত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, ‘আলফা ওয়াতান’ মূলত টোগোর পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ছিল, যা রোমানিয়ার সুলিনা বন্দরের দিকে যাত্রা করছিল। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত দুইটার সামান্য পর বুলগেরিয়ার উপকূল থেকে আনুমানিক ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে এই জাহাজটির সর্বশেষ ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছিল।

এই আকস্মিক ও গুরুতর হামলার পর উদ্ভূত সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বুলগেরিয়া সরকার এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য একটি জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ এই বৈঠকে উপস্থিত থেকে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন যে, বুলগেরিয়ার নিজস্ব অর্থনৈতিক অঞ্চলে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে এ ধরনের হামলার ঘটনা এটিই প্রথম। উল্লেখ্য, বুলগেরিয়া সামরিক জোট ন্যাটোর একটি সদস্য রাষ্ট্র হওয়ায় এই ঘটনা আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

এর মাত্র একদিন আগেই কৃষ্ণসাগরে তুরস্কের মালিকানাধীন একটি শস্যবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে অনুরূপ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই হামলায় জাহাজটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যাওয়ার পর সেটিও ডুবে যায় এবং মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় দুজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে বাণিজ্যিক জলযান ও জাহাজে একের পর এক এ ধরনের হামলার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায় পুরো অঞ্চলের আন্তর্জাতিক নৌপথ ও নৌযান চলাচলের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

কৃষ্ণসাগরে বুলগেরিয়ার উপকূলে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলা

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৩:৫১:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

কৃষ্ণসাগরে বুলগেরিয়ার উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে রহস্যজনক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ভয়াবহ হামলায় একটি জাহাজ সম্পূর্ণ ডুবে গেছে এবং সেটির নাবিকেরা বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছেন। তবে অপর আক্রান্ত জাহাজটির ১৮ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বুলগেরিয়ার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম বিএনআর সূত্রে জানা গেছে, ডুবে যাওয়া জাহাজটির নাবিকদের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, অপর জাহাজটিতে হামলা ও আগুন লাগার পর আতঙ্কিত নাবিকেরা দ্রুত জাহাজটি ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তাঁদের একটি বুলগেরীয় ফেরিতে নিরাপদে তুলে নেওয়া হয়। উদ্ধার হওয়া ওই নাবিকদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

বুলগেরিয়ার নৌপরিবহনবিষয়ক বিশিষ্ট সংবাদমাধ্যম ‘মেরিটাইম ডটবিজি’-এর তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় যে জাহাজটি ডুবে গেছে সেটির নাম ‘আলফা ওয়াতান’ এবং অপর আক্রান্ত জাহাজটির নাম ‘এবল’। তবে বর্তমান পর্যন্ত এই ড্রোন হামলাগুলো ঠিক কোথা থেকে বা কোন উৎস থেকে পরিচালিত হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। জাহাজসমূহের গতিপথ পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ‘ভেসেলফাইন্ডার’-এর প্রাপ্ত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, ‘আলফা ওয়াতান’ মূলত টোগোর পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ছিল, যা রোমানিয়ার সুলিনা বন্দরের দিকে যাত্রা করছিল। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত দুইটার সামান্য পর বুলগেরিয়ার উপকূল থেকে আনুমানিক ৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে এই জাহাজটির সর্বশেষ ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছিল।

এই আকস্মিক ও গুরুতর হামলার পর উদ্ভূত সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বুলগেরিয়া সরকার এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য একটি জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ এই বৈঠকে উপস্থিত থেকে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন যে, বুলগেরিয়ার নিজস্ব অর্থনৈতিক অঞ্চলে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে এ ধরনের হামলার ঘটনা এটিই প্রথম। উল্লেখ্য, বুলগেরিয়া সামরিক জোট ন্যাটোর একটি সদস্য রাষ্ট্র হওয়ায় এই ঘটনা আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

এর মাত্র একদিন আগেই কৃষ্ণসাগরে তুরস্কের মালিকানাধীন একটি শস্যবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে অনুরূপ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই হামলায় জাহাজটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যাওয়ার পর সেটিও ডুবে যায় এবং মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় দুজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে বাণিজ্যিক জলযান ও জাহাজে একের পর এক এ ধরনের হামলার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায় পুরো অঞ্চলের আন্তর্জাতিক নৌপথ ও নৌযান চলাচলের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।