সাব-রেজিস্ট্রার পদায়ন ও বদলি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলার লক্ষ্যে লটারিভিত্তিক বদলি ব্যবস্থার ঐতিহাসিক সূচনা করেছে সরকার। কোনো সাব-রেজিস্ট্রার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত প্রমাণিত হলে তাকে কোনো অবস্থাতেই রাজধানী ঢাকায় রাখা হবে না বলে অত্যন্ত কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে ঢাকা জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর জন্য নির্ধারিত শূন্য পদে লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের মনে সাব-রেজিস্ট্রারদের পোস্টিং নিয়ে বরাবরই একটি নেতিবাচক ধারণা বা পারসেপশন কাজ করে আসছে, যেখানে ঢাকাকে সবসময় ‘প্রাইস পোস্টিং’ বা লোভনীয় স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাতারাতি পুরো সিস্টেম পরিবর্তন করা সম্ভব না হলেও পরিবর্তনের সেই কাঙ্ক্ষিত যাত্রা আজ থেকে শুরু হলো। সারা দেশে ‘এ’ ক্যাটাগরির সাব-রেজিস্ট্রার পদ রয়েছে ১৩১টি। এর অংশ হিসেবে লটারির মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন অফিসের জন্য ১৮ জন সাব-রেজিস্ট্রার নির্ধারণ করা হয়েছে। লটারি ড্রয়ের পর তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে এবং কাজের চাপ ও দক্ষতা যাচাই করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পদায়ন করা হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই পুরো কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা হবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে বলেন, দুর্নীতির আখড়া হিসেবে পরিচিত সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে দিতে এই লটারি প্রক্রিয়া নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। তবে ঢালাওভাবে কাউকে হয়রানি করা হবে না; কেবল সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ সাপেক্ষেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় সাব-রেজিস্ট্রার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাসোহারা বা চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলা হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। দুর্নীতি চিরতরে নির্মূল করতে কেবল প্রশাসনিক কড়াকড়ি নয়, সবার মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তনের ওপরও বিশেষ জোর দেন আইনমন্ত্রী। বর্তমানে সারা দেশে ৩৭২ জন সাব-রেজিস্ট্রার কর্মরত থাকলেও এখনও ১৩৯টি পদ খালি রয়েছে বলে জানান তিনি।






















