ইসলামে ঋণ পরিশোধের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। কারো কাছ থেকে অর্থ ধার নেওয়ার পর তা পরিশোধের আন্তরিক ইচ্ছা থাকা যেমন জরুরি, তেমনি পাওনাদারের অধিকার নষ্ট করাও মারাত্মক অপরাধ। তবে অনেক সময় আন্তরিক চেষ্টা সত্ত্বেও যদি পাওনাদারকে খুঁজে পাওয়া না যায়, সে ক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কে ইসলামি শরিয়তে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, পাওনাদারকে খুঁজে না পাওয়া গেলে প্রথম কাজ হলো সম্ভাব্য সব উপায়ে তাঁর সন্ধান করা। তাঁর শেষ ঠিকানা, আত্মীয়স্বজন বা পরিচিতদের মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করতে হবে। পাওনাদার যদি মারা গিয়ে থাকেন, তবে তাঁর বৈধ উত্তরাধিকারীদের খুঁজে বের করে পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা আবশ্যক।
সব ধরনের যুক্তিসংগত চেষ্টার পরও যদি পাওনাদার বা তাঁর ওয়ারিশদের কোনো সন্ধান না মেলে, তবে আলেমদের মতে, ওই ঋণের অর্থ পাওনাদারের পক্ষ থেকে গরিব-দুঃখী বা কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে সদকা করে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে নিয়ত থাকবে যে, এই দানের সওয়াব যেন প্রকৃত পাওনাদার পান।
তবে সদকা করার পর ভবিষ্যতে কখনো যদি পাওনাদার বা তাঁর উত্তরাধিকারীর সন্ধান পাওয়া যায়, তবে তাঁদের বিষয়টি জানাতে হবে। তাঁরা যদি পূর্বের সদকা মেনে না নিয়ে নিজেদের অর্থ দাবি করেন, তবে তাঁদের পাওনা পরিশোধ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ইসলামি ফতোয়া অনুযায়ী, শুধু সদকা করার অজুহাতে পাওনাদারের মূল অধিকার অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।


























