বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রথম মুসলিম ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সিনেটর শেখ রহমান। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) এক শোকবার্তায় তিনি খালেদা জিয়াকে একজন ‘জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা’ হিসেবে অভিহিত করে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেন। সিনেটর শেখ রহমান বলেন, বেগম জিয়ার নেতৃত্ব ও দেশের প্রতি নিবেদন কেবল বাংলাদেশে নয়, বরং বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী প্রভাব ফেলেছে।
গণতন্ত্র ও নারী ক্ষমতায়নে অবদানের স্বীকৃতি; ‘ক্ষতি অনুভব করছে বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ মানুষ’
১ জানুয়ারি ২০২৬ | সকাল ১১:০০ টা
অনলাইন ডেস্ক
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে শোকবার্তার প্রবাহ শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জর্জিয়া স্টেট সিনেটর এই বার্তা প্রদান করেন।
গণতন্ত্রের অগ্রদূত ও নারী শিক্ষার প্রবক্তা
সিনেটর শেখ রহমান তাঁর বার্তায় খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন:
- গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ: বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
- নারী ক্ষমতায়ন: তিনি বাংলাদেশে নারী ক্ষমতায়ন ও বিশেষ করে মেয়েদের অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষার প্রসারে একজন অগ্রণী প্রবক্তা ছিলেন।
- জনসেবা: দেশের জনগণের কল্যাণে তিনি অক্লান্তভাবে কাজ করেছেন যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
অসুস্থতা ও শেষ দিনগুলোর বিষাদ
খালেদা জিয়ার জীবনের শেষ বছরগুলো অসুস্থতা ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে কাটানোয় দুঃখ প্রকাশ করেন মার্কিন এই সিনেটর। তিনি বলেন, “বেগম জিয়ার শেষ সময়গুলো অত্যন্ত কঠোর ও কষ্টকর ছিল, যা সত্যিই বেদনাদায়ক।” তিনি তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছ থেকে এমন শোকবার্তা এটিই প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক মহলে খালেদা জিয়ার গ্রহণযোগ্যতা ও তাঁর অবদানের মূল্যায়ন অপরিসীম। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণী মহলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে, সেখানে খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে একটি ‘গণতান্ত্রিক যুগের অবসান’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।















