পারস্পরিক অংশীদারত্ব ও আঞ্চলিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই কেবল বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলো সম্মিলিতভাবে বর্তমান সময়ের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন। গত সোমবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর সমাপনী দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মঅধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সুনির্দিষ্ট অভিমত ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, বিশিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে।
মাহদী আমিন তাঁর বক্তব্যে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানান যে, বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রের সঙ্গে সমতা, পারস্পরিক ন্যায্যতা এবং সুদৃঢ় ন্যায়বিচারের ওপর ভিত্তি করেই দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক রূপায়ণ করা সম্ভব। কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছা নয়, বরং শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বা কানেক্টিভিটি রক্ষা, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিধানের মতো কৌশলগত ক্ষেত্রগুলোতে পারস্পরিক অংশীদারত্ব আরও বেশি জোরদার করার ওপর বিশেষ তাগিদ দেন তিনি।
মানবিক সংকটের অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে রোহিঙ্গা ইস্যু প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘকাল ধরে প্রায় তেরো লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে নিজ ভূখণ্ডে মানবিক আশ্রয় দিয়ে আসছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি দেখভালের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে, একটি নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে তাদের নিজ মাতৃভূমিতে স্থায়ী প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার জন্য বিশ্বজুড়ে ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সক্রিয় অংশীদারদের সম্মিলিতভাবে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
আধুনিক প্রযুক্তিগত বিপ্লবের প্রভাব সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের নেতিবাচক প্রভাবে প্রচলিত কিছু কর্মক্ষেত্র সংকুচিত বা বিলুপ্ত হতে পারে। তবে যথাযথ বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক শিক্ষাক্রম প্রণয়নের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের অপার সম্ভাবনা উন্মোচন করা সম্পূর্ণরূপে সম্ভবপর।
দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত মারাত্মক ঝুঁকিগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করতে বর্তমান প্রশাসনের সুদূরপ্রসারী বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি জানান যে, আগামী পাঁচ বছরের দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপের আওতায় দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ, প্রায় ২০ হাজার খাল ও নদী পুনর্খনন করা হবে। এছাড়া পানিসম্পদ সংরক্ষণের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে ঐতিহাসিক পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ এবং তিস্তা ব্যারেজের একটি আধুনিক মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ সরকারের সক্রিয় পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।






















