Dhaka ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

কানাডার অর্থনীতি ও সমাজে বাংলাদেশিদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে: হাইকমিশনার

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১২:৪৫:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১০ বার দেখা হয়েছে

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’ সম্মেলনে বক্তব্য প্রদানকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন যে, প্রবাসী বাংলাদেশিরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কানাডার সমাজ ও জাতীয় অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। সোমবার সকালে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যকার ঐতিহাসিক, গভীর ও সুদৃঢ় সম্পর্কের নানা দিক অত্যন্ত সুচারুভাবে তুলে ধরেন।

হাইকমিশনার তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূর্যোদয় থেকেই দুই দেশের মধ্যে একটি বিশ্বাসের সেতু রচিত হয়েছে। কানাডা সরকার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশকে মোট ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারেরও বেশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা প্রদান করতে পেরে অত্যন্ত গৌরব বোধ করে। বর্তমানে উত্তর আমেরিকার এই দেশটিতে এক লাখের বেশি বাংলাদেশি বসবাস করছেন, যারা দেশটির সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক উন্নয়নে নিয়মিত ও সক্রিয় অবদান রেখে যাচ্ছেন।

বিশ্বজুড়ে চলমান নানা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও গত ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৪ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, এই অংকটি পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় অন্তত ২৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দেশের এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কেবল গতানুগতিক দাতাসুলভ উন্নয়ন সহযোগিতার গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একে আরও বিস্তৃত, আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপান্তর করার জোর আহ্বান জানান কানাডিয়ান হাইকমিশনার। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, আধুনিক প্রযুক্তি, জ্বালানি খাত, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, মানসম্মত শিক্ষা এবং ডিজিটাল উদ্ভাবনের মতো সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোতে উভয় দেশ যৌথভাবে কাজ করার মাধ্যমে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করতে পারে।

এ সময় তিনি বাংলাদেশের বর্তমান সময়ে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন অর্থনৈতিক, বিচার বিভাগীয় ও শাসনতান্ত্রিক সংস্কারের উচ্চ প্রশংসা করেন। হাইকমিশনার বলেন, সুদূরপ্রসারী এসব গণতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক সংস্কার দেশকে একটি টেকসই, স্থিতিশীল এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত করবে। বর্তমান পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় অর্থনৈতিক নীতি এবং পররাষ্ট্রনীতির মধ্যকার সীমারেখা দিন দিন আবছা হয়ে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কানাডা এই নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে নিজেদের বাণিজ্য ক্ষেত্রকে বহুমুখী করা এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার উদ্যোগ নিয়েছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

কানাডার অর্থনীতি ও সমাজে বাংলাদেশিদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে: হাইকমিশনার

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১২:৪৫:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’ সম্মেলনে বক্তব্য প্রদানকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন যে, প্রবাসী বাংলাদেশিরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কানাডার সমাজ ও জাতীয় অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। সোমবার সকালে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যকার ঐতিহাসিক, গভীর ও সুদৃঢ় সম্পর্কের নানা দিক অত্যন্ত সুচারুভাবে তুলে ধরেন।

হাইকমিশনার তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূর্যোদয় থেকেই দুই দেশের মধ্যে একটি বিশ্বাসের সেতু রচিত হয়েছে। কানাডা সরকার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশকে মোট ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারেরও বেশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা প্রদান করতে পেরে অত্যন্ত গৌরব বোধ করে। বর্তমানে উত্তর আমেরিকার এই দেশটিতে এক লাখের বেশি বাংলাদেশি বসবাস করছেন, যারা দেশটির সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক উন্নয়নে নিয়মিত ও সক্রিয় অবদান রেখে যাচ্ছেন।

বিশ্বজুড়ে চলমান নানা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও গত ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৪ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, এই অংকটি পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় অন্তত ২৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দেশের এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কেবল গতানুগতিক দাতাসুলভ উন্নয়ন সহযোগিতার গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একে আরও বিস্তৃত, আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপান্তর করার জোর আহ্বান জানান কানাডিয়ান হাইকমিশনার। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, আধুনিক প্রযুক্তি, জ্বালানি খাত, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, মানসম্মত শিক্ষা এবং ডিজিটাল উদ্ভাবনের মতো সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোতে উভয় দেশ যৌথভাবে কাজ করার মাধ্যমে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করতে পারে।

এ সময় তিনি বাংলাদেশের বর্তমান সময়ে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন অর্থনৈতিক, বিচার বিভাগীয় ও শাসনতান্ত্রিক সংস্কারের উচ্চ প্রশংসা করেন। হাইকমিশনার বলেন, সুদূরপ্রসারী এসব গণতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক সংস্কার দেশকে একটি টেকসই, স্থিতিশীল এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত করবে। বর্তমান পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় অর্থনৈতিক নীতি এবং পররাষ্ট্রনীতির মধ্যকার সীমারেখা দিন দিন আবছা হয়ে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কানাডা এই নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে নিজেদের বাণিজ্য ক্ষেত্রকে বহুমুখী করা এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার উদ্যোগ নিয়েছে।